প্রকাশিত : ১৮:৪৬
২৪ আগষ্ট ২০২৬
✍️ রেজুয়ান আহম্মেদ
বিদেশে মাস্টার্স কিংবা পিএইচডি করার স্বপ্ন বাংলাদেশের বহু শিক্ষার্থীর। কিন্তু উচ্চ টিউশন ফি, আবাসন ব্যয়, ভিসা খরচ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক সময় সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ শুরুতেই এমন বিশ্ববিদ্যালয় ও বৃত্তির সন্ধান করেন, যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়েরও উল্লেখযোগ্য অংশ বহন করা সম্ভব।
তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই যেখানে আবেদন করলেই শতভাগ নিশ্চিতভাবে ফুল ফান্ডিং পাওয়া যায়। পূর্ণ অর্থায়ন পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, সুপারিশপত্র, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, গবেষণা প্রস্তাব, সম্ভাব্য সুপারভাইজারের গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং সর্বোপরি আবেদনের সামগ্রিক মানের ওপর।
তবে সঠিক পরিকল্পনা ও কৌশল নিয়ে আবেদন করলে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এবং বৃত্তি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ও বাস্তবসম্মত সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি পর্যায়ে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, টিউশন মওকুফ এবং স্টাইপেন্ডভিত্তিক অর্থায়নের সুযোগ উল্লেখযোগ্য। ইউরোপে ইরাসমাস মুন্ডুস, ডিএএডি এবং বিভিন্ন সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরাসমাস মুন্ডুস জয়েন্ট মাস্টার্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণ বৃত্তির সুযোগ দিতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী বৃত্তির পরিমাণ সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে ১,৪০০ ইউরো হতে পারে। এর সঙ্গে ভ্রমণ, ভিসা, সেটেলমেন্ট এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্যও সহায়তা থাকতে পারে। সাধারণত ইরাসমাস মুন্ডুসের অধিকাংশ আবেদন অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে গ্রহণ করা হয়। তবে প্রতিটি প্রোগ্রামের আবেদন সময়সীমা আলাদা হতে পারে।
প্রথম বাস্তব সিদ্ধান্ত: মাস্টার্স নাকি পিএইচডি
ফুল ফান্ডিং পাওয়ার ক্ষেত্রে মাস্টার্স এবং পিএইচডি এক ধরনের সুযোগ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি সাধারণত অর্থায়নের দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী পথগুলোর একটি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তাবের সঙ্গে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, ফেলোশিপ, টিউশন কভারেজ এবং মাসিক বা বার্ষিক স্টাইপেন্ড প্রদান করে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ এক বছরের বা প্রফেশনাল মাস্টার্স প্রোগ্রামে পূর্ণ অর্থায়ন তুলনামূলকভাবে বিরল। তাই একজন শিক্ষার্থীর লক্ষ্য যদি নিজের অর্থ ব্যয় না করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা হয়, তাহলে প্রফেশনাল মাস্টার্সের পরিবর্তে ফান্ডেড থিসিস মাস্টার্স অথবা সরাসরি ফান্ডেড পিএইচডি খোঁজা অধিক কার্যকর কৌশল হতে পারে।
ইউরোপে মাস্টার্স পর্যায়ে ইরাসমাস মুন্ডুস এবং বিভিন্ন জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বৃত্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জার্মানিতে ডিএএডি একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ। ২০২৬ সালের ডিএএডি মাস্টার্স বৃত্তিতে মাসিক ৯৯২ ইউরো, বিমা সহায়তা, ভ্রমণ ভাতা এবং বার্ষিক পড়াশোনা ভাতা রয়েছে। তবে ডিএএডি নিজেই উল্লেখ করেছে যে সাধারণ এই বৃত্তি টিউশন ফি কভার করে না। ফলে কোনো প্রোগ্রামে আবেদন করার আগে সেই প্রোগ্রামের টিউশন কাঠামো অবশ্যই যাচাই করতে হবে।
ডিএএডির বৃত্তি ডাটাবেজে মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়সহ বিভিন্ন ধরনের অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে।
ফার্মেসি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়
ফার্মেসি শিক্ষার্থীদের একটি সাধারণ ভুল হলো কেবল Pharmacy শব্দটি দিয়ে মাস্টার্স বা পিএইচডি খোঁজা। বাস্তবে ফার্মেসি ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক শক্তিশালী প্রোগ্রামের নাম হতে পারে Pharmaceutical Sciences, Medicinal Chemistry, Drug Discovery, Pharmaceutics, Pharmacology, Pharmaceutical Technology, Pharmacotherapy, Pharmacovigilance, Regulatory Science, Clinical Research, Pharmacoeconomics অথবা Pharmaceutical Health Services Research।
অর্থাৎ BPharm বা PharmD সম্পন্ন করার পর কেবল Pharmacy Masters লিখে অনুসন্ধান না করে নিজের গবেষণার আগ্রহ ও দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রোগ্রাম নির্বাচন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
১. পারডু ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র
ফার্মেসি শিক্ষার্থীদের জন্য পারডু ইউনিভার্সিটি একটি আকর্ষণীয় ফান্ডেড পিএইচডি গন্তব্য। পারডু কলেজ অব ফার্মেসির তথ্য অনুযায়ী, তাদের অধিকাংশ স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ অথবা ফেলোশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব পায়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও এই অর্থায়ন কাঠামোর আওতায় আসতে পারে।
পিএইচডি পর্যায়ে Pharmacy, Pharmaceutical Sciences, Medicinal Chemistry, Molecular Pharmacology, Pharmaceutics এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণা ক্ষেত্রগুলোতে আবেদন করা যেতে পারে। সাধারণত আবেদনের জন্য ট্রান্সক্রিপ্ট, সুপারিশপত্র, Statement of Purpose এবং প্রয়োজনীয় ইংরেজি ভাষার দক্ষতার স্কোর দরকার হয়।
যাদের Drug Discovery, Pharmaceutics, Medicinal Chemistry অথবা Molecular Pharmacology নিয়ে গবেষণার আগ্রহ রয়েছে, তাদের জন্য পারডু একটি ভালো লক্ষ্য হতে পারে।
২. ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলো, যুক্তরাষ্ট্র
ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোর Department of Pharmaceutical Sciences আন্তর্জাতিক ফার্মেসি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য একটি আকর্ষণীয় ফান্ডেড পিএইচডি বিকল্প।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণকালীন পিএইচডি শিক্ষার্থীরা টিউশন বৃত্তি এবং স্টাইপেন্ড পেতে পারেন। তাদের PhD Excellence Initiative ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের অর্থায়ন কাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফিও অর্থায়িত শিক্ষার্থীদের কাভার্ড ফির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ফার্মেসি, বায়োকেমিস্ট্রি, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল অথবা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাগত পটভূমি থেকে আবেদন করা যেতে পারে। ন্যূনতম GPA হিসেবে ৪.০ এর মধ্যে ৩.০ উল্লেখ করা হয়েছে।
Drug Discovery, Drug Development, Biotherapy এবং Pharmaceutical Research নিয়ে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি উপযোগী গন্তব্য হতে পারে।
৩. ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র
ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান কলেজ অব ফার্মেসির ২০২৬ সালের Pharmaceutical Sciences PhD ব্রোশিওর অনুযায়ী, প্রোগ্রামটি টিউশন, সুবিধা এবং স্টাইপেন্ডসহ অর্থায়িত কাঠামো অনুসরণ করে।
Medicinal Chemistry সহ অন্যান্য ফার্মেসি সংশ্লিষ্ট ডক্টরাল প্রোগ্রামেও একই ধরনের অর্থায়নের সুযোগ দেখা যায়। Pharmaceutical Sciences, Drug Discovery, Medicinal Chemistry এবং শিল্পভিত্তিক গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি শক্তিশালী বিকল্প।
৪. রাটগার্স ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র
রাটগার্সের Ernest Mario School of Pharmacy একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। এখানে Pharmaceutical Sciences-এ MS এবং PhD উভয় ডিগ্রির সুযোগ রয়েছে এবং ফার্মেসি ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন।
রাটগার্সের তথ্য অনুযায়ী, সফল আবেদনকারীদের মধ্যে Pharmacy, Engineering, Chemistry, Biochemistry এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী রয়েছেন। Pharmaceutical Science প্রোগ্রামে অর্থায়িত গবেষণার পরিবেশ রয়েছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখা দরকার। Medicinal Chemistry-তে ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবেদন করলে University Fellowship, Teaching Assistantship অথবা Research Assistantship-এর জন্য পূর্ণ বিবেচনা পাওয়া যায়। কিন্তু MS শিক্ষার্থীদের জন্য ফান্ডিং নেই বলে প্রোগ্রাম পেজে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাটগার্সের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ হলো PharmD এবং PhD-এর ডুয়াল ডিগ্রি পথ। উচ্চমানের ফার্মেসি শিক্ষার্থীরা এখানে গবেষণামুখী ডক্টরাল প্রশিক্ষণের সুযোগ পেতে পারেন।
৫. ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র
Ohio State College of Pharmacy-এর স্নাতকোত্তর হ্যান্ডবুক অনুযায়ী, Pharmaceutical Sciences PhD শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই Teaching Assistantship, Research Assistantship অথবা Fellowship-এর মতো স্টাইপেন্ডভিত্তিক অর্থায়নের মাধ্যমে সহায়তা পান।
Pharmaceutics, Pharmacology, Medicinal Chemistry, Pharmacognosy এবং Translational Science নিয়ে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প।
৬. ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোর, যুক্তরাষ্ট্র
University of Maryland School of Pharmacy-এর Pharmaceutical Sciences PhD প্রোগ্রাম পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পূর্ণ অর্থায়িত কাঠামো প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বার্ষিক স্টাইপেন্ড, টিউশন মওকুফ, স্বাস্থ্যবিমা এবং শিক্ষার্থী ফি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, স্টাইপেন্ড ৩৫,৫২৫ ডলার এবং মোট সহায়তার মূল্য প্রায় ৫০,০০০ ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে। Pharmaceutical Sciences PhD প্রোগ্রামের বর্তমান ভর্তি যোগ্যতার তথ্য অনুযায়ী আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রোগ্রামটি মূলত মার্কিন নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা, কিছু নির্দিষ্ট স্ট্যাটাস এবং কানাডার নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত।
সুতরাং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আবেদন করার আগে বর্তমান আন্তর্জাতিক যোগ্যতা অবশ্যই যাচাই করতে হবে। শুধু ফান্ডিং ভালো হলেই কোনো প্রোগ্রাম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত হবে, এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি ফান্ডিংয়ের জন্য আরও শক্তিশালী বিশ্ববিদ্যালয়
ফার্মেসির বাইরে Biomedical Science, Pharmacology, Drug Development এবং Life Science-এর বৃহত্তর ক্ষেত্রেও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক পিএইচডি আবেদনকারীদের জন্য শক্তিশালী লক্ষ্য হতে পারে। এর মধ্যে Duke University, Cornell University এবং University of California System উল্লেখযোগ্য।
Duke Graduate School বর্তমানে পূর্ণকালীন PhD শিক্ষার্থীদের অন্তত প্রথম পাঁচ বছর গ্যারান্টেড ফান্ডিংয়ের কাঠামোর কথা উল্লেখ করেছে। এই ফান্ডিংয়ের মধ্যে স্টাইপেন্ড, টিউশন, ফি এবং স্বাস্থ্যবিমা রয়েছে।
Cornell-এর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯৯ শতাংশ PhD শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ অর্থায়িত। তাদের ফান্ডিং প্যাকেজে টিউশন, ফি, স্বাস্থ্যবিমা এবং জীবনযাত্রার স্টাইপেন্ড থাকতে পারে। Cornell Doctoral Fellowship-এর কিছু সুযোগ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্যও উন্মুক্ত।
University of California System, বিশেষ করে Berkeley, Biomedical Science, Molecular Science এবং Pharmaceutical Research-এর ক্ষেত্রে ডিপার্টমেন্টভিত্তিক ফান্ডিং, বহিঃস্থ ফেলোশিপ এবং Research Assistantship-এর সুযোগ দিতে পারে। তবে এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা উচিত। ডিপার্টমেন্টভেদে ফান্ডিং কাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক টিউশন কভারেজ প্রোগ্রামভেদে আলাদাভাবে যাচাই করা আবশ্যক।
ইউরোপে কোন দেশগুলো আগে লক্ষ্য করবেন
জার্মানি
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য জার্মানি একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। কারণ দেশটির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক প্রোগ্রামে টিউশন কাঠামো তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক এবং DAAD-এর মতো জাতীয় বৃত্তির সুযোগ রয়েছে।
DAAD Masters Scholarship ১০ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত অর্থায়ন দিতে পারে। নির্বাচিত প্রোগ্রামে টিউশন না থাকলেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
DAAD-এর EPOS Program বিশেষভাবে উন্নয়নমুখী স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে যোগ্য উন্নয়নশীল দেশের আবেদনকারীদের মাস্টার্স এবং কিছু ক্ষেত্রে ডক্টরাল পর্যায়ে অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ডক্টরাল প্রার্থীদের জন্য মাসিক ১,৪০০ ইউরো পর্যন্ত অর্থ প্রদানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিমা ও ভ্রমণ সহায়তা থাকতে পারে।
ফার্মেসির ক্ষেত্রে Pharmaceutical Biotechnology, Drug Research, Molecular Medicine, Pharmaceutical Sciences, Medicinal Chemistry এবং Drug Development-এর মতো ক্ষেত্রগুলো অনুসন্ধান করা যেতে পারে।
ইরাসমাস মুন্ডুস, ইউরোপ
ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স খুঁজছেন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য Erasmus Mundus অনেক ক্ষেত্রেই প্রথম দিকের অনুসন্ধানের বিষয় হওয়া উচিত।
এটি কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়। বরং এটি ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসোর্টিয়ামভিত্তিক যৌথ মাস্টার্স প্রোগ্রাম। একটি প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীকে একাধিক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে হতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ বৃত্তিতে অংশগ্রহণের খরচ, ভ্রমণ, ভিসা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য সহায়তা থাকতে পারে। বর্তমান বৃত্তির হিসাবে মাসিক ১,৪০০ ইউরো পর্যন্ত সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের সর্বশেষ কলে নতুন ৩৭টি Erasmus Mundus Joint Masters নির্বাচিত হয়েছে এবং এগুলো ২০২৬ সালের শরতে শিক্ষার্থীদের আবেদনের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কথা।
নেদারল্যান্ডস
ফার্মেসি এবং Pharmaceutical Science-এর জন্য নেদারল্যান্ডস একটি শক্তিশালী একাডেমিক গন্তব্য।
University of Groningen-এর MSc Medical Pharmaceutical Sciences সরাসরি Pharmacy অথবা Pharmaceutical Sciences ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী। প্রোগ্রামটি Pharmaceutical, Biological এবং Medical Science-এ পরবর্তী PhD-এর জন্যও শক্তিশালী প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে Groningen-এর non-EU tuition বর্তমানে প্রায় ২৪,৯০০ ইউরোর কাছাকাছি। তাই কোনো প্রোগ্রামে ভর্তি হলেই পূর্ণ বৃত্তি পাওয়া যাবে, এমন ধারণা করা উচিত নয়। প্রয়োজনে বাইরের বৃত্তির ব্যবস্থা করতে হতে পারে।
Utrecht University-এর Drug Innovation Program Pharmaceutical Science, Drug Development এবং সংশ্লিষ্ট Life Science ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। Utrecht আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বৃত্তি ও অনুদানের বিকল্পের কথাও উল্লেখ করে।
ডেনমার্ক
University of Copenhagen-এর MSc in Pharmaceutical Sciences ফার্মেসি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শক্তিশালী প্রোগ্রাম।
২০২৬ সালের ভর্তি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রোগ্রামে ৩০টি আসন ছিল এবং ৩০৬টি আবেদনের মধ্যে ৫৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নির্বাচনের সময় GPA-এর পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক ইন্টার্নশিপ, কাজের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও বিবেচনা করে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। শুধু ভালো GPA যথেষ্ট নয়। গবেষণার অভিজ্ঞতা, ইন্টার্নশিপ এবং সংশ্লিষ্ট বাস্তব অভিজ্ঞতা একজন আবেদনকারীর প্রোফাইলকে যথেষ্ট শক্তিশালী করতে পারে।
ফিনল্যান্ড
University of Helsinki-তে Master’s Programme in Pharmaceutical Research, Development and Safety রয়েছে। এই প্রোগ্রামে Drug Candidate Discovery, Preclinical Evaluation, Pharmaceutical Product Development এবং ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যান্য ইউরোপীয় লক্ষ্য
ফার্মেসি ও Pharmaceutical Sciences-এর জন্য একটি বাস্তবসম্মত গবেষণা তালিকা তৈরি করা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে Purdue University, University at Buffalo, University of Michigan, Rutgers University, Ohio State University, Duke University এবং Cornell University-এর PhD Assistantship, Fellowship অথবা Guaranteed Funding-এর পথ রয়েছে।
ইউরোপে জার্মানির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, Groningen, Utrecht, Copenhagen, Helsinki এবং Erasmus Mundus Consortium-এর বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও বৃত্তির সুযোগ অনুসন্ধান করা যেতে পারে।
তবে এই তালিকাকে নিশ্চিত বৃত্তি পাওয়ার তালিকা হিসেবে না দেখে সম্ভাবনাময় লক্ষ্য তালিকা হিসেবে ব্যবহার করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।
একজন নতুন শিক্ষার্থী কোথা থেকে শুরু করবেন
সবচেয়ে বড় ভুল হলো প্রথমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম খুঁজতে শুরু করা। সঠিক পদ্ধতি হলো প্রথমে নিজের প্রোফাইল তৈরি করা।
প্রথম ধাপে একটি স্প্রেডশিট অথবা খাতায় নিজের CGPA, ডিগ্রি, পাসের বছর, IELTS বা TOEFL স্কোর, গবেষণার অভিজ্ঞতা, থিসিস, প্রকাশনা, কনফারেন্স উপস্থাপনা, ইন্টার্নশিপ, ল্যাবরেটরি দক্ষতা, সফটওয়্যার দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা, সম্ভাব্য সুপারিশকারী অধ্যাপক এবং গবেষণার আগ্রহ লিখে রাখুন।
দ্বিতীয় ধাপে নিজের গবেষণার ক্ষেত্র নির্ধারণ করুন। ফার্মেসি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে Pharmaceutics, Drug Delivery, Nanomedicine, Medicinal Chemistry, Pharmacology, Pharmacokinetics, Pharmacogenomics, Drug Discovery, Clinical Pharmacy, Pharmaceutical Technology, Regulatory Science, Pharmacoeconomics, Pharmaceutical Biotechnology, Toxicology, Drug Safety অথবা Pharmaceutical Health Services Research-এর মতো ক্ষেত্র বেছে নেওয়া যেতে পারে।
একজন শিক্ষার্থী যখন শুধু বলেন, "আমি Pharmaceutical Sciences পড়তে চাই", তখন তার বক্তব্যটি সাধারণ থাকে। কিন্তু যদি তিনি বলেন, "আমি Nano Drug Delivery এবং Targeted Cancer Therapy নিয়ে গবেষণা করতে চাই", তাহলে তার গবেষণার লক্ষ্য অনেক বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং আবেদনও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হতে পারে।
তৃতীয় ধাপে প্রায় ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে তিন ভাগে ভাগ করুন। Dream List-এ ৮ থেকে ১০টি, Target List-এ ১০ থেকে ১২টি এবং Realistic List-এ ৮ থেকে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় রাখা যেতে পারে।
শুধু Harvard, MIT, Stanford অথবা Yale-এর মতো অতি প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে বসে থাকলে বৃত্তির কৌশল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ আবেদন তালিকা তৈরি করা অনেক বেশি কার্যকর।
চতুর্থ ধাপে প্রতিটি অধ্যাপকের গবেষণা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। বিশেষ করে PhD আবেদনের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অধ্যাপকের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখুন তিনি কী নিয়ে গবেষণা করছেন, সাম্প্রতিক প্রকাশনাগুলো কী, তিনি নতুন শিক্ষার্থী নিচ্ছেন কি না, বর্তমানে গবেষণা অনুদান আছে কি না এবং আপনার থিসিস বা গবেষণার সঙ্গে তার কাজের কতটা মিল রয়েছে।
এরপর একটি সংক্ষিপ্ত ও পেশাদার ইমেইল পাঠানো যেতে পারে।
উদাহরণ
Subject: Prospective PhD Student in Pharmaceutical Sciences
Dear Professor [Name],
I am a graduate in Pharmacy from [University, Bangladesh], with research experience in [specific area]. My academic and research interests are closely related to your work on [specific research topic].
I recently read your work on [specific paper/topic], and I found the research particularly relevant to my interest in [specific area]. I am interested in pursuing doctoral research under your supervision, particularly in [specific proposed direction].
I have attached my CV for your consideration. I would be grateful to know whether you are currently accepting PhD students and whether funded positions may be available in your research group.
Sincerely,
[Full Name]
[Degree]
[University]
[Email]
এই ইমেইল কখনোই "স্যার, আমি বৃত্তি চাই, দয়া করে সাহায্য করুন" ধরনের হওয়া উচিত নয়। একজন অধ্যাপকের কাছে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আপনার গবেষণার আগ্রহ, তার গবেষণার সঙ্গে আপনার সামঞ্জস্য এবং আপনি কী নিয়ে কাজ করতে চান, সেটিই প্রধান বিষয় হওয়া উচিত।
Statement of Purpose কীভাবে প্রস্তুত করবেন
পঞ্চম ধাপে Statement of Purpose বা SOP প্রস্তুত করতে হবে। এটি বৃত্তি ও বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নথি।
একটি ভালো SOP-এর শুরুতে কোন একাডেমিক সমস্যা অথবা গবেষণার আগ্রহ আপনাকে এই ক্ষেত্রে নিয়ে এসেছে, তা ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এরপর আপনার ডিগ্রি, প্রাসঙ্গিক কোর্স এবং একাডেমিক প্রস্তুতি তুলে ধরতে হবে।
পরবর্তী অংশে থিসিস, ল্যাবরেটরির কাজ, গবেষণা পদ্ধতি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। প্রকাশনা বা একাডেমিক অর্জন থাকলে সেগুলো উল্লেখ করা উচিত। প্রকাশনা না থাকলে গবেষণা প্রকল্প, থিসিস, কনফারেন্স অথবা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা যায়।
এরপর ব্যাখ্যা করতে হবে কেন আপনি নির্দিষ্ট গবেষণা ক্ষেত্রটি বেছে নিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন এই বিশ্ববিদ্যালয়, কেন নির্দিষ্ট অধ্যাপক, কেন সংশ্লিষ্ট ল্যাবরেটরি বা গবেষণা কেন্দ্র আপনার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এরপর ভবিষ্যৎ গবেষণার আগ্রহ, সম্ভাব্য গবেষণা প্রশ্ন এবং সেই গবেষণার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া যেতে পারে। শেষ দিকে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার লক্ষ্য স্পষ্ট করতে হবে এবং সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন আপনি ওই প্রোগ্রামের জন্য একজন উপযুক্ত প্রার্থী।
একটি পেশাদার SOP-তে আবেদনকারীর নাম, প্রোগ্রাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, একাডেমিক প্রেরণা, একাডেমিক প্রস্তুতি, গবেষণার অভিজ্ঞতা, গবেষণার আগ্রহ, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের কারণ, ক্যারিয়ার উদ্দেশ্য এবং উপসংহার থাকতে পারে।
তবে SOP কখনোই CV-এর অনুচ্ছেদভিত্তিক পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়। SOP-এর উদ্দেশ্য হলো কমিটিকে বোঝানো যে আপনি কে, কেন এই ক্ষেত্র বেছে নিয়েছেন, কেন এখন এই ডিগ্রি করতে চান, কেন এই বিশ্ববিদ্যালয় এবং এই অধ্যাপক আপনার জন্য উপযুক্ত, কোন গবেষণা সমস্যায় আপনার আগ্রহ রয়েছে, কেন আপনি সেই গবেষণা করতে সক্ষম এবং ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর আপনি কী করতে চান।
একজন ফার্মেসি গ্র্যাজুয়েট উদাহরণ হিসেবে লিখতে পারেন:
"আমার স্নাতক ফার্মেসি শিক্ষার সময় থেরাপিউটিক অণুকে নির্দিষ্ট জৈবিক লক্ষ্যে কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার চ্যালেঞ্জের প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হয়। স্নাতক গবেষণার অভিজ্ঞতা আমাকে ফর্মুলেশন উন্নয়ন এবং ল্যাবভিত্তিক মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত করেছে। এই অভিজ্ঞতাই আমাকে ড্রাগ ডেলিভারি নিয়ে আরও গভীর গবেষণার প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে।"
এরপর অবশ্যই নিজের বাস্তব থিসিস, গবেষণা বা প্রকল্প অনুযায়ী নির্দিষ্ট তথ্য যোগ করতে হবে।
পরে বলা যেতে পারে, "আমি বিশেষভাবে অধ্যাপক [Name]-এর [topic] বিষয়ক গবেষণায় আগ্রহী। তার গবেষণার এই দিকটি আমার [topic] বিষয়ক গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো একাডেমিক ও ট্রান্সলেশনাল গবেষণার মাধ্যমে নিরাপদ এবং কার্যকর Drug Delivery System উন্নয়নে অবদান রাখা।"
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাধারণ ও মুখস্থ ভাষা পরিহার করে নিজের সত্যিকারের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করা।
আবেদনের নথিপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখুন
বৃত্তির আবেদনের জন্য একজন নতুন শিক্ষার্থীর পাসপোর্ট, একাডেমিক সনদ, ট্রান্সক্রিপ্ট, CV, IELTS বা TOEFL স্কোর, SOP, Research Statement, Personal Statement, দুই বা তিনটি সুপারিশপত্র, থিসিস বা প্রকল্পের সারসংক্ষেপ, প্রকাশনার তালিকা, গবেষণা প্রস্তাব, ইন্টার্নশিপ সনদ, চাকরির সনদ, পুরস্কারের প্রমাণপত্র, কনফারেন্স সনদ, পোর্টফোলিও এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা উচিত।
মাসভিত্তিক আবেদন পরিকল্পনা
আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর:
গবেষণার ক্ষেত্র নির্ধারণ করুন, CV তৈরি করুন, IELTS প্রস্তুতি শুরু করুন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করুন।
সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর:
সম্ভাব্য অধ্যাপকদের তালিকা তৈরি করুন, গবেষণাপত্র পড়ুন, SOP-এর প্রথম খসড়া প্রস্তুত করুন এবং সুপারিশপত্রের জন্য উপযুক্ত অধ্যাপক নির্বাচন করুন।
অক্টোবর থেকে নভেম্বর:
Erasmus Mundus এবং DAAD-এর প্রোগ্রাম খুঁজুন, যুক্তরাষ্ট্রের PhD প্রোগ্রামগুলো শর্টলিস্ট করুন এবং সম্ভাব্য সুপারভাইজারদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করুন।
নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর:
SOP চূড়ান্ত করুন, সুপারিশপত্র নিশ্চিত করুন এবং ট্রান্সক্রিপ্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সনদ প্রস্তুত রাখুন।
ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি:
Erasmus Mundus এবং ইউরোপীয় বিভিন্ন বৃত্তিতে আবেদন করুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের PhD প্রোগ্রামের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী আবেদন জমা দিন।
ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল:
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুতি নিন, অতিরিক্ত নথি জমা দিন এবং ফান্ডিং ও ভর্তির প্রস্তাব মনোযোগ দিয়ে যাচাই করুন।
সবচেয়ে কার্যকর বৃত্তি কৌশল
একজন বাংলাদেশি ফার্মেসি শিক্ষার্থীর জন্য বাস্তবসম্মতভাবে কয়েকটি স্তরে কাজ করা যেতে পারে।
প্রথম স্তরে Erasmus Mundus রাখা যেতে পারে। পূর্ণ বৃত্তির ক্ষেত্রে এটি ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।
দ্বিতীয় স্তরে যুক্তরাষ্ট্রের Funded PhD Program বিবেচনা করা যেতে পারে। Purdue, Buffalo, Michigan, Rutgers এবং Ohio State-এর Pharmacy ও Pharmaceutical Sciences-এর প্রোগ্রামগুলো বিশেষভাবে গবেষণা করা যেতে পারে।
তৃতীয় স্তরে Germany এবং DAAD রাখা যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রোগ্রামে টিউশন কম অথবা ব্যবস্থাপনাযোগ্য, সেসব প্রোগ্রামের সঙ্গে DAAD funding মিলিয়ে দেখা যেতে পারে। তবে DAAD-এর শর্ত প্রোগ্রাম এবং আবেদনকারীর দেশ অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।
চতুর্থ স্তরে Netherlands এবং Scandinavia-এর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাখা যেতে পারে। Groningen, Utrecht, Copenhagen এবং Helsinki-তে Pharmaceutical Sciences ও Drug-related বিভিন্ন প্রোগ্রাম রয়েছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে টিউশন এবং বৃত্তির বিষয় আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে।
বিদেশে ফুল বৃত্তি পাওয়ার সবচেয়ে বড় রহস্য কোনো একটি "সহজ" বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে পাওয়া নয়। প্রকৃত বিষয় হলো নিজের একাডেমিক ও গবেষণামূলক প্রোফাইলকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় বুঝতে পারে আপনি শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন করতে চান না। আপনি একটি নির্দিষ্ট একাডেমিক অথবা গবেষণাগত সমস্যা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী এবং সেই কাজের জন্য আপনার যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে।
বিশেষ করে ফার্মেসি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে CGPA গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই সবকিছু নয়। গবেষণার অভিজ্ঞতা, ল্যাবরেটরি দক্ষতা, থিসিসের মান, বৈজ্ঞানিক লেখার সক্ষমতা, প্রকাশনা, শক্তিশালী সুপারিশ এবং সম্ভাব্য অধ্যাপকের গবেষণার সঙ্গে আপনার আগ্রহের সামঞ্জস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যে শিক্ষার্থী আজ থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে চান, তার প্রথম কাজ হতে পারে প্রায় ৩০টি প্রোগ্রামের একটি স্প্রেডশিট তৈরি করা। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়, প্রোগ্রাম, অধ্যাপক, গবেষণার ক্ষেত্র, টিউশন ফি, বৃত্তি, ফান্ডিংয়ের ধরন, আবেদন সময়সীমা, IELTS-এর প্রয়োজনীয়তা এবং আবেদনের লিংকের জন্য আলাদা কলাম রাখা যেতে পারে।
এরপর একটি SOP সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর পরিবর্তে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণা দলের জন্য আলাদাভাবে SOP তৈরি করা উচিত। এতে আবেদনকারীর প্রকৃত গবেষণার আগ্রহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির সঙ্গে তার সামঞ্জস্য অনেক বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্যটি হলো, পূর্ণ অর্থায়নে বিদেশে পড়াশোনা করা সম্ভব, কিন্তু তা কখনো স্বয়ংক্রিয় নয়। একটি শক্তিশালী একাডেমিক প্রোফাইল, পরিষ্কার গবেষণার দিক, যথাযথ প্রস্তুতি এবং সঠিক প্রোগ্রাম নির্বাচন থাকলে সুযোগ অবশ্যই অনেক বেড়ে যায়।
বিশেষ করে ফার্মেসি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য Purdue University, University at Buffalo, University of Michigan, Rutgers University এবং Ohio State University-এর Funded PhD পথের পাশাপাশি Erasmus Mundus, DAAD এবং নির্বাচিত ইউরোপীয় Pharmaceutical Sciences Program-গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে গবেষণা করা যুক্তিযুক্ত।