প্রকাশিত :  ০৯:১৫
১৯ আগষ্ট ২০২৬

জিপিএ-৫ পেয়েও অনিশ্চিত রেশমির চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন

জিপিএ-৫ পেয়েও অনিশ্চিত রেশমির চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন

সংগ্রাম দত্ত: অভাব-অনটন আর দারিদ্র্যকে সঙ্গী করেই পড়াশোনা করেছে রেশমি আক্তার সুমাইয়া। সীমাহীন কষ্টের মধ্যেও থেমে থাকেনি তার পথচলা। এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে সেই অধ্যবসায়ের স্বীকৃতিও পেয়েছে সে। কিন্তু সাফল্যের পরই নতুন দুশ্চিন্তা সামনে এসেছে—অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারবে তো রেশমি?

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের জালালিয়া (কলেজের পাশে) গ্রামের দিনমজুর কাওসার আহমেদ ও রোশনা আক্তারের তৃতীয় সন্তান রেশমি। চলতি বছর কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া মাত্র দুজন শিক্ষার্থীর একজন রেশমি।

রেশমির স্বপ্ন, বড় হয়ে চিকিৎসক হবে। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের আর্থিক সংকট। কলেজে ভর্তি, বইপত্র কেনা, যাতায়াতসহ নিয়মিত পড়াশোনার খরচ কীভাবে জোগাড় হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবারটি।

রেশমির বাবা কাওসার আহমেদ দিনমজুরি করে পাঁচ সদস্যের সংসার চালান। সংসারের নিত্যদিনের খরচ সামলাতেই তাঁকে হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে মেয়ের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা তাঁর একার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

শুধু অর্থের সংকট নয়, রেশমিদের বসতঘরটির অবস্থাও জরাজীর্ণ। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতর পানি পড়ে। এমন প্রতিকূল পরিবেশেই পড়াশোনা করে এসএসসিতে সাফল্য পেয়েছে রেশমি।

পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে রেশমির বড় বোন উর্মি আক্তার পিনকি, যিনি কমলগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে পড়েছেন, এবং মেজো বোন প্রমি আক্তারের, যিনি আব্দুল গফুর মহিলা কলেজে পড়েছেন, পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে যায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই রেশমির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন পরিবার।

রেশমির বাবা কাওসার আহমেদ বলেন, “আমার মেয়েটি অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। আমি চাই সে আরও লেখাপড়া করে একজন ডাক্তার হোক। কিন্তু আমার একার পক্ষে সব খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।”

রেশমির এই সাফল্য শুধু তার পরিবারের নয়, কমলগঞ্জের জন্যও গর্বের। সীমিত সামর্থ্যের একটি পরিবার থেকে উঠে এসে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করা এই শিক্ষার্থীকে এখন উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া গেলে তার মেধার বিকাশ ঘটতে পারে। অর্থের অভাবে যদি তার পড়াশোনা থেমে যায়, তাহলে তা হবে মেধার অপচয়।

এ অবস্থায় রেশমির চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ও হৃদয়বান মানুষদের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোও কি এমন মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে পারে না—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে। শিক্ষা-সহায়তা, বৃত্তি কিংবা প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে রেশমির পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হলে তার স্বপ্নের পথ অনেকটাই সহজ হতে পারে।

রেশমির মতো একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শুধু দারিদ্র্যের কারণে থেমে যেতে না দিয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর এখনই সময়। সামান্য সহযোগিতাই হয়তো তাকে একদিন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে দেবে।



Leave Your Comments




শিক্ষাঙ্গন এর আরও খবর