প্রকাশিত :  ০৯:৪৮
১১ আগষ্ট ২০২৬

মৌলভীবাজারে এসএসসিতে পাসের হার ৫৫.৯২%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ৭২৫ জন

মৌলভীবাজারে এসএসসিতে পাসের হার ৫৫.৯২%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ৭২৫ জন

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। জেলার ১৯ হাজার ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ হাজার ১০৩ জন। জিপিএ–৫ পেয়েছে ৭২৫ জন।

উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে বড়লেখা। এ উপজেলায় পাসের হার ৬০ দশমিক ০২ শতাংশ। এরপর কুলাউড়ায় ৫৯ দশমিক ১৩, মৌলভীবাজার সদরে ৫৯ দশমিক ০৩, জুড়ীতে ৫৬ দশমিক ২৯, শ্রীমঙ্গলে ৫৬ দশমিক ০৩, রাজনগরে ৫০ দশমিক ৬৩ এবং কমলগঞ্জে ৪৬ দশমিক ০২ শতাংশ।

অন্যদিকে, জিপিএ–৫ পাওয়ার দিক থেকে জেলার উপজেলাগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মৌলভীবাজার সদর। এ উপজেলায় ১৯৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে। শ্রীমঙ্গলে ১৫৫, কুলাউড়ায় ১২০, কমলগঞ্জে ১১৪, বড়লেখায় ৭২, রাজনগরে ৪২ এবং জুড়ীতে ২৭ জন জিপিএ–৫ পেয়েছে।

পাসের হারে বড়লেখা এগিয়ে

সাধারণ এসএসসির ফলাফলে মৌলভীবাজারের সাত উপজেলার মধ্যে বড়লেখার শিক্ষার্থীরা পাসের হারে সবচেয়ে এগিয়ে। এ উপজেলায় পাসের হার ৬০ দশমিক ০২ শতাংশ।

এরপর রয়েছে কুলাউড়া ৫৯ দশমিক ১৩ শতাংশ, মৌলভীবাজার সদর ৫৯ দশমিক ০৩, জুড়ী ৫৬ দশমিক ২৯, শ্রীমঙ্গল ৫৬ দশমিক ০৩, রাজনগর ৫০ দশমিক ৬৩ এবং কমলগঞ্জ ৪৬ দশমিক ০২ শতাংশ।

অর্থাৎ সাধারণ এসএসসিতে উপজেলা পর্যায়ে পাসের হারে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উপজেলার মধ্যে ব্যবধানও উল্লেখযোগ্য।

জিপিএ–৫-এ সদর উপজেলা সবার ওপরে

জিপিএ–৫ পাওয়ার সংখ্যায় মৌলভীবাজার সদর অন্য উপজেলাগুলোর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। সদর উপজেলায় ১৯৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে।

শ্রীমঙ্গলে ১৫৫, কুলাউড়ায় ১২০, কমলগঞ্জে ১১৪, বড়লেখায় ৭২, রাজনগরে ৪২ এবং জুড়ীতে ২৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে।

ফলে পাসের হারে বড়লেখা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ–৫ পাওয়ার সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে মৌলভীবাজার সদর।

ভোকেশনালে পাসের হার ৪৮.৩৩ শতাংশ

এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষাতেও মৌলভীবাজারে ফলাফল খুব বেশি সন্তোষজনক নয়। জেলার ১৪টি প্রতিষ্ঠানের ৭২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৪৯ জন। জিপিএ–৫ পেয়েছে ১৩ জন। এ বিভাগে জেলার পাসের হার ৪৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে ভোকেশনালে সবচেয়ে বেশি পাসের হার কমলগঞ্জে—৮৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম পাসের হার শ্রীমঙ্গলে—৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

কারিগরিতে পাসের হার ৪৯.১২ শতাংশ

এসএসসি কারিগরি পরীক্ষায় জেলার তিনটি প্রতিষ্ঠানের ২৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪১ জন। জিপিএ–৫ পেয়েছে ৭ জন। মোট পাসের হার ৪৯ দশমিক ১২ শতাংশ।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে মৌলভীবাজার সদরে পাসের হার ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ, বড়লেখায় ৫৪ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং রাজনগরে ৭৫ শতাংশ।

অর্থাৎ কারিগরি ধারাতেও উপজেলা পর্যায়ে ফলাফলের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

দাখিলে পাসের হার ৫০.৫৬ শতাংশ

মৌলভীবাজারে দাখিল পরীক্ষার ফলাফলেও পাসের হার ৫০ শতাংশের কিছুটা বেশি। জেলার ৭৪টি প্রতিষ্ঠানের ৪ হাজার ১৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২ হাজার ৮৮ জন। জিপিএ–৫ পেয়েছে ১৯ জন। জেলার গড় পাসের হার ৫০ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে দাখিলে সর্বোচ্চ পাসের হার শ্রীমঙ্গলে—৫৭ দশমিক ৭১ শতাংশ। এরপর জুড়ীতে ৫৫ দশমিক ১০, কুলাউড়ায় ৫৩ দশমিক ৯৪, বড়লেখায় ৫১ দশমিক ৭০, মৌলভীবাজার সদরে ৫১ দশমিক ১৪, রাজনগরে ৪১ দশমিক ৬৬ এবং কমলগঞ্জে ৩৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

অর্থাৎ দাখিলে শ্রীমঙ্গল জেলার মধ্যে সেরা ফল করেছে, আর সবচেয়ে কম পাসের হার কমলগঞ্জে।

দাখিলে উপজেলাভিত্তিক ফল

মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫১২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ–৫ পেয়েছে ১০ জন। এ উপজেলায় শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একটি।

রাজনগরে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ৩৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ–৫ পেয়েছে একজন। পাসের হার ৪১ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

কুলাউড়ায় ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ৮৬২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ–৫ পেয়েছে তিনজন। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

জুড়ীতে আটটি প্রতিষ্ঠানের ৪৪১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ–৫ পেয়েছে একজন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ১০ শতাংশ।

বড়লেখায় ১৫টি প্রতিষ্ঠানের ৬৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ–৫ পেয়েছে দুজন। পাসের হার ৫১ দশমিক ৭০ শতাংশ।

শ্রীমঙ্গলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ৩৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ–৫ পেয়েছে একজন। পাসের হার ৫৭ দশমিক ৭১ শতাংশ, যা দাখিলে জেলার উপজেলাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

কমলগঞ্জে সাতটি প্রতিষ্ঠানের ৪৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ–৫ পেয়েছে একজন। পাসের হার ৩৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যা জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন। এ উপজেলায় শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একটি।

দাখিল ভোকেশনালে রাজনগরে পাস ৪০ শতাংশ

দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষা–২০২৬-এ রাজনগর উপজেলার একটি প্রতিষ্ঠানের ২০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে আটজন। ফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশ। এ উপজেলায় কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পায়নি।

শ্রীমঙ্গলে পাসের হারে নটরডেম, জিপিএ–৫-এ বাডস

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সাধারণ এসএসসির ফলাফলে জিপিএ–৫ পাওয়ার সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে দি বাডস রেসিডেনসিয়্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। অন্যদিকে পাসের হারে সবার ওপরে রয়েছে শ্রীমঙ্গল নটরডেম স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, দি বাডস রেসিডেনসিয়্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১১৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১০৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৩ দশমিক ১০ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ–৫ পেয়েছে সর্বোচ্চ ৪০ জন।

অন্যদিকে নটরডেম স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১০৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। জিপিএ–৫ পেয়েছে ২৪ জন। পাসের হারে এটিই উপজেলার সর্বোচ্চ।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সেন্ট মার্থাস উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ–৫ পেয়েছে ১৭ জন। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

নটরডেমে ২৪, বাডসে ৪০ জিপিএ–৫

শ্রীমঙ্গল নটরডেম স্কুল অ্যান্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষা–২০২৬-এ মোট ১১১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল। এর মধ্যে ১১০ জন পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং ১০৯ জন উত্তীর্ণ হয়। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২৩ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে। সব মিলিয়ে জিপিএ–৫ পেয়েছে ২৪ জন।

অন্যদিকে দি বাডস রেসিডেনসিয়্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১১৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং জিপিএ–৫ পেয়েছে ৪০ জন।

সেন্ট মার্থাস উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ১৭ জন জিপিএ–৫ পেয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ফল

শ্রীমঙ্গলের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে বর্ডার গার্ড পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৪ জন, শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২ জন, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) থেকে ৯ জন এবং ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ জন জিপিএ–৫ পেয়েছে।

এ ছাড়া শ্রীমঙ্গল উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬ জন, আছিদ উল্লা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬ জন, ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩ জন, বেগম রাছুলজান আব্দুল বারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩ জন, ভুনবীর দশরত স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২ জন, শাহ মোস্তফা জা: ইস: উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২ জন এবং আব্দুল ওহাব উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২ জন জিপিএ–৫ পেয়েছে।

হাজী রশিদ মিয়া মেহেরজান উচ্চ বিদ্যালয়, রানার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বরুনা হাজী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এবং হুগলিয়া হাজী মনছব উল্লা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন করে শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে।

শ্রীমঙ্গলে সামগ্রিক ফলও প্রশ্ন তুলছে

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের এসএসসি–২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গলের ২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২ হাজার ৯৬৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৬০ জন উত্তীর্ণ এবং ১ হাজার ৩০৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ–৫ পেয়েছে মোট ১৫৫ জন। এসএসসিতে মোট পাসের হার ৫৬ দশমিক ০৩ শতাংশ।

অন্যদিকে দাখিল পরীক্ষায় পাঁচটি মাদ্রাসা থেকে ৩৫০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২০২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং জিপিএ–৫ পেয়েছে একজন। পাসের হার ৫৭ দশমিক ৭১ শতাংশ।

এসএসসি ভোকেশনালে মনাই উল্লা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

ফলাফলে সাফল্য ও বৈষম্য—দুই চিত্রই স্পষ্ট

মৌলভীবাজারের ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে একদিকে যেমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলার ভালো সাফল্য চোখে পড়ে, অন্যদিকে উপজেলা ও শিক্ষাধারাভেদে ফলাফলের বড় পার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সাধারণ এসএসসিতে পাসের হারে বড়লেখা এগিয়ে, আর জিপিএ–৫ পাওয়ার সংখ্যায় মৌলভীবাজার সদর শীর্ষে। দাখিলে পাসের হারে শ্রীমঙ্গল সবার ওপরে, বিপরীতে কমলগঞ্জে পাসের হার সবচেয়ে কম। ভোকেশনালে আবার কমলগঞ্জের ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো হলেও শ্রীমঙ্গলে পাসের হার কম।

শ্রীমঙ্গলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বৈপরীত্য দেখা গেছে। নটরডেম স্কুল অ্যান্ড কলেজ পাসের হারে উপজেলার সেরা হলেও জিপিএ–৫ পাওয়ার সংখ্যায় বাডস রেসিডেনসিয়্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এগিয়ে।

এই ফলাফল শুধু কে কত জিপিএ–৫ পেল, সেই হিসাব নয়। একই জেলার বিভিন্ন উপজেলা, প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাধারার মধ্যে ফলাফলের যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কোন কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান বা উপজেলা ভালো করছে এবং কোথাও পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম—সেই কারণগুলো বিশ্লেষণ করাও এখন জরুরি।

শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ভূমিকা রয়েছে। শ্রীমঙ্গলের সাফল্য পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরা ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও সুনিয়ন্ত্রিত পাঠদানকে এই ফলাফলের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলের প্রত্যাশা জানিয়েছেন।

মৌলভীবাজারের এবারের ফলাফল তাই একদিকে সাফল্যের গল্প তুলে ধরেছে, অন্যদিকে শিক্ষার মান, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পার্থক্য এবং পাসের হারের বৈষম্য নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগও তৈরি করেছে।


Leave Your Comments




শিক্ষাঙ্গন এর আরও খবর