প্রকাশিত : ১৪:৩৭
০২ আগষ্ট ২০২৬
অফিস বা বাসায় নয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকের পাশের একটি চায়ের দোকানে প্রকাশ্যে এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, খাতা মূল্যায়নের সময় ওই শিক্ষকের সঙ্গে তার কয়েকজন বন্ধুও অংশ নেন। বিষয়টি জানার পর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের কাছ থেকে ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করেন। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে ঘটা এই নজিরবিহীন ঘটনায় শিক্ষা বোর্ড অভ্যন্তর ও পরীক্ষকদের মধ্যে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত পরীক্ষক ইকবাল হোসেন (সোহান) সিলেট মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক।
সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, প্রকাশ্যে অরক্ষিত অবস্থায় খাতা দেখার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা থানায় আসেন। বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং জব্দকৃত ৪০০টি খাতা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের জিম্মায় নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার স্থান ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় গেটের পাশের ফজলুল হকের চায়ের দোকানে বসে খাতা দেখছিলেন ইকবাল হোসেন সোহান। সাথে ছিলেন তাঁর কয়েকজন বন্ধু, যাঁরা শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী (যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক এক সহ-সভাপতিও ছিলেন)। দোকান মালিক ফজলুল হক জানান, আগের দিন শুক্রবার রাতেও তাঁরা একইভাবে সেখানে বসে খাতা মূল্যায়ন করেছিলেন।
তথ্য পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিনের নেতৃত্বে তিন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে ঝটিকা অভিযান চালান। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে পুলিশ ডেকে খাতাগুলো জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন জানান, চায়ের দোকানে প্রকাশ্যে খাতা দেখার সময় ওই শিক্ষককে হাতেনাতে ধরা হয় এবং ৪০০ খাতা উদ্ধার করা হয়। ঘটনা তদন্তে কলেজ পরিদর্শককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রবিবার সংশ্লিষ্ট কলেজ প্রধানের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ চিঠি পাঠানো হয়েছে।