প্রকাশিত :  ১৩:৩৭
২৩ জুলাই ২০২২

ক্যাসিনোর আরেক নাম এসএমই মার্কেট

ক্যাসিনোর আরেক নাম এসএমই মার্কেট

শেয়ারবাজার থেকে ঝড়ে পড়া, বিনিয়োগকারীদের রিটার্ণ দিতে না পারা-এই রমক ব্যর্থ কিছু কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে এসএসই মার্কেট। এর মধ্যে যুক্ত হয়েছে স্বল্প মূলধনী কিছু নতুন কোম্পানি। সব মিলিয়ে বর্তমানে এই বাজারে মোট কোম্পানির সংখ্যা ১৩টি। যাদের প্রতিদিনই বাড়ছে শেয়ারদর। বিষয়টি মুল মার্কেটের সাথে সাংঘর্ষিক। মূল মার্কেটে ভালো ভালো কোম্পানির শেয়ারের ক্রেতা থাকছে না। অন্যদিকে, এসএমইতে থাকা পচা, দূর্বল কোম্পানির শেয়ার নিয়ে চলছে ধুমছে জুয়া খেলা।


এসএমই মার্কেট অনেকটা লাইসেন্সধারী ক্যাসিনো বলেও অ্যাখ্যায়িত করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা। কারণ এই মার্কেটে এখন মূল মার্কেটের টাকা চলে যাচ্ছে। সবগুলো কোম্পানি স্বল্প মূলধনী হওয়ায় এই মার্কেটের শেয়ার নিয়ে কারসাজি করা অনেকটাই সহজ। এই বাজারে চলেছে কারসাজিও। যার কারণে এই বাজারকে জুয়ার বাজার বা লাইসেন্সধারী ক্যাসিনো বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।


এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদ শেয়ারনিউজকে বলেন, এসএমই মার্কেটে বেশির ভাগই বা ৯০ শতাংশই জুয়ারিদের আড্ডা খানা। এই মার্কেটে মূল মার্কেটের টাকা চলে যাচ্ছে। আর সেই টাকা নিয়ে জুয়া খেলছে বিনিয়োগকারী নামের কিছু জুয়ারি। এতে করে মূল মার্কেট তার গতি হারাচ্ছে।


অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিজেদের শেয়ার নিয়ে হতাশায় ভুগছেন। এসএমই মার্কেটের বিষয়টি বর্তমান কমিশনের সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।


বর্তমানে যে বিনিয়োগকারীর কাছে ২০ লাখ টাকা রয়েছে, সেই এসএমই মার্কেটে লেনদেন করতে পারে। যেহেত এসএমই মার্কেট লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তাই এসএমই মার্কেটে লেনদেন করার জন্য বিনিয়োগকারীরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই মার্কেটে লেনদেনের শুরুতে শর্ত ছিলো বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ কমপক্ষে এক কোটি টাকা থাকতে হবে। পরে কমিয়ে নামানো হয়েছিলো ৫০ লাখ টাকায়। এরপর আরও কমিয়ে ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে।


এসএমই মার্কেটকে ইচ্ছাকৃতভাবে জুয়া খেলার সুযোগ করে দিয়েছে বিএসইসি-এমন অভিযোগ এখন বিনিয়োগকারীদের মুখে মুখে।


শেয়ারনিউজের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেন করে এমন কোন বিনিয়োগকারীর কাছে ১০ লাখ টাকা থাকলে, সে বিনিয়োগকারী ১:১ হিসেবে মার্জিন নিয়ে বিনিয়োগ ২০ লাখ টাকা করে। এরপর এসএমই মার্কেটে লেনদেনের জন্য আবেদন করে। এসএমই মার্কেটে লেনদেনের অনুমোদন পাওয়ার পর সে মার্জিন লোন পরিশোধ করে নিজের ১০ লাখ টাকা দিয়ে এসএমই মার্কেটে লেনদেন করছে। এতে করে মূল বাজার থেকে বিনিয়োগ কমছে। অন্যদিকে, এসএমই মার্কেটে লেনদেন বাড়ছে।


বিএসইসির ক্রমাগত এসএমই মার্কেটে লেনদেনের শর্ত শিথিল করার কারণে এই সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে মূল মার্কেট। তাই বিএসইসি এসএমই মার্কেটে লেনদেনের বিষয়ে নতুন করে চিন্তার করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।


এর আগে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এই বোর্ডের উদ্বোধন করেন বিএসইসি কমিশনার মিজানুর রহমান। সেই সময় এই বোর্ডেটি ছয়টি কোম্পানি নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। এই বোর্ডের প্রধান সূচক ডিএসএমইএক্স। উদ্ভোধনের দিন থেকে এই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বেড়েছে ৫৫০ শতাংশ পর্যন্ত।


নিন্মে কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর বৃদ্ধির তথ্য থুলে ধরা হলো:




কোম্পানির নাম

সর্বনিন্ম দর

সর্বোচ্চ দর

দর বৃদ্ধি এবং শতাংশ

স্টার অ্যাডহেসিভ

১১

৭১.৫০

৬০.৫০ টাকা বা ৫৫০ শতাংশ

বিডি পেইন্টস

১১ টাকা

৫২.৮০ টাকা

৪১.৮০ টাকা বা ৩৮০ শতাংশ

নিয়ালকো

১৪.৪০ টাকা

৫২.৮০ টাকা

৩৮.৪০ টাকা বা ২৬৬ শতাংশ

কৃষিবিদ সীড

১১ টাকা

৩৭.৩০ টাকা

২৬.৩০ টাকা বা ২৩৯ শতাংশ

কৃষিবিদ ফিড

১০ টাকা

৩২.১০ টাকা

২২.১০ টাকা বা ২২১ শতাংশ

মামুন এগ্রো

১১ টাকা

৩১ টাকা

২১ টাকা বা ১৯০.৯০ শতাংশ

মোস্তফা মেটাল

১২ টাকা

৩৪.৫০ টাকা

২২.৫০ টাকা বা ১৮৭.৫০ শতাংশ

এপেক্স ওয়েভিং

১৪.৪০ টাকা

৩৮.৬০ টাকা

২৪.২০ টাকা বা ১৬৮ শতাংশ

ওয়াল্ডল্যান্ড টয়েস

১৯.৯০ টাকা

৫২.২০ টাকা

৩২.৩০ টাকা বা ১৬২.৩১ শতাংশ

ওরিজা এগ্রো

১২ টাকা

২৯.৪০ টাকা

১৭.৪০ টাকা বা ১৪৫ শতাংশ

মাস্টার এগ্রো

১২ টাকা

২৮.২০ টাকা

১৬.২০ টাকা বা ১৩৫ শতাংশ

বেঙ্গল বিস্কুট

১১১ টাকা

১৪৯.১০ টাকা

৩৮.১০ টাকা বা ৩৪.৩২ শতাংশ

আছিয়া সী ফুড

১১ টাকা

১৪.৬০ টাকা

৩.৬০ টাকা বা ৩২.৭২ শতাংশ

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) এসএমই মার্কেটের ১৩টি কোম্পানির সবগুলোরই শেয়ারদর বেড়েছে। এদিন লেনদেন হয়েছে ৪২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার এসএমইর সূচক ১৫৪.৪৪ শতাংশ বেড়ে অবস্থান করছে ১৯৮৩.৭০ পয়েন্টে। একদিকে মুল মার্কেটের সূচক কমে সর্বশান্ত করছে বিনিয়োগকারীদের; অন্যদিকে এসএমই ১৩ কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যাচ্ছে।

যাত্রা শুরুর প্রথম ছয়টি কোম্পানির মধ্যে ওরাইজা অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও মাস্টার ফিড এগ্রোটেক আইপিও প্রক্রিয়ার মাধ্যেমে তালিকাভুক্ত হয়। এপেক্স উইভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস লিমিটেড, ওয়ান্ডার ল্যান্ড টয়েস লিমিটেড, হিমাদ্রী লিমিটেড ও বেঙ্গল বিস্কুট লিমিটেডকে বিলুপ্ত হওয়া ওভার দ্যা কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট থেকে এসএমই বোর্ডে যুক্ত করা হয়। এরপর ক্রমাগত আইপিও’র মাধ্যমে আরও ৭টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে এসএমই মার্কেটে লেনদেন করেছে।


Leave Your Comments




এস এম ই এর আরও খবর