প্রকাশিত :  ১৬:২৩
০২ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:৩৫
০২ নভেম্বর ২০২৬

২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন

২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক নারীর কাছ থেকে দুই দফায় ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা সব স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের ওজন ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের করবুল নেছা (৬০) ও হিনাইনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন (৪৫) এবং জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বিজয় বৈদ্য (৪৮) ও হরিরামপুর গ্রামের রিপন মিয়া (৩৮)।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ‘জেলা পুলিশ মৌলভীবাজার’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী বড়লেখার হিনাইনগর গ্রামের রোকেয়া বেগমকে ফোন করেন। ফোনে ওই নারী তাঁকে জানান, কথিত ‘জিন্নী হুজুর’ তাঁর অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করে দিতে পারবেন। তবে এ জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে এবং বিষয়টি কাউকে জানানো যাবে না। কাউকে জানালে ছেলের ক্ষতি হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।

ছেলের সুস্থতার আশায় ওই নারীর কথায় বিশ্বাস করেন রোকেয়া বেগম। এরপর তাঁকে বসতঘরের পেছনে ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর একটি পরিষ্কার বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে আসতে বলা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী স্বর্ণালংকার রেখে আসার দুই ঘণ্টা পর সেখানে গিয়ে তিনি আর সেগুলো পাননি।

পরে ওই নারীকে ফোন করলে তাঁকে জানানো হয়, ‘জিন্নী মুমিন’ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন। এক মাসের মধ্যে তাঁর ছেলে সুস্থ হবে এবং স্বর্ণালংকারও ফেরত পাবেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর কিছুদিন পর গত ১৬ অক্টোবর একই নারী আবার ফোন করেন। এবারও একই স্থানে আরও স্বর্ণালংকার রেখে আসতে বলেন তিনি। স্বর্ণালংকার না রাখলে ছেলে পাগল হয়ে যাবে এবং রাখলে এক ঘণ্টার মধ্যে আগের স্বর্ণালংকারসহ সব ফেরত পাওয়া যাবে বলে ভয় দেখানো হয়। ছেলের ক্ষতির আশঙ্কায় রোকেয়া বেগম দ্বিতীয় দফায়ও স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। কিন্তু পরে সেখানে গিয়ে সেগুলোও পাননি।

এভাবে দুই দফায় তাঁর কাছ থেকে ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা।

পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ কামরুল ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) প্রসেন কান্তি দাস ও সন্তোষ কুমার বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। প্রথমে বড়লেখার আহমদপুর ও হিনাইনগর এলাকা থেকে করবুল নেছা ও তাজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিজয় বৈদ্য ও রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি সিতাহার, দুই জোড়া ঝুমকা ও একটি আংটি উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগী নিজে উদ্ধার করা স্বর্ণালংকার শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১ নভেম্বর বড়লেখা থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনকে গতকাল ২ নভেম্বর আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।



Leave Your Comments




সারাদেশ এর আরও খবর