প্রকাশিত :  ০৫:২৫
০১ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকার ছয় রুটে আজ থেকে চলবে কোম্পানিভিত্তিক বাস

ঢাকার ছয় রুটে আজ থেকে চলবে কোম্পানিভিত্তিক বাস

রাজধানী ঢাকার ছয়টি রুটে আজ রোববার থেকে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হচ্ছে। ২০১৫ সালে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়ার প্রায় ১১ বছর পর বড় পরিসরে এ পদ্ধতি চালু হতে যাচ্ছে। এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঘাটারচর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাসসেবা চালু করা হলেও তা সফল হয়নি।

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত ৮ অক্টোবর বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছয় মাসের মধ্যে বাস রুট রেশনালাইজেশন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। এ পদ্ধতিতে রাজধানীতে বিদ্যমান ৯৮টি বাস রুটকে পুনর্বিন্যাস (রেশনালাইজেশন) করে ৩২টিতে নামিয়ে আনা হবে। প্রতি রুটে একটি মাত্র কোম্পানির বাস চলবে। বর্তমানে সেসব কোম্পানির বাস চলছে, সেগুলোকেই একীভূত করে একটি কোম্পানি গঠন করা হবে।   

প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পরিবহন খাতে এই শ্রমিক নেতা পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী। তিনি সমকালকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালু করা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত সময়ের মধ্যে ৩২টি রুটেই কোম্পানিভিত্তিক বাস চালু করা হবে। 

প্রস্তাবিত রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে– গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকার আজিমপুর, মিরপুর থেকে কেরানীগঞ্জ, কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে ডেমরা, ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর, ঘাটারচর থেকে ধউর এবং টঙ্গী থেকে আজিমপুর। রুটভেদে ২০ থেকে ২৫৩টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

শিববাড়ী থেকে আজিমপুর পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার রুটে ২৫৩টি নন-এসি বাস পরিচালনা করবে ভিআইপি পরিবহন। এ রুটে বর্তমানে ভিআইপি ও বিকাশ পরিবহনের বাস চলাচল করছে। 

রাজধানীতে যানজট ও সড়ক দখল করে চলার অন্যতম কারণ বাসে বাসে প্রতিযোগিতা। একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাস চলায় এই প্রতিযোগিতা হয়। একটি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক একটি কোম্পানির বাস চালাতে ২০১৫ সালে কমিটি করে সরকার। ২০০৪ সালে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) প্রস্তাব করা ‘বাস ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি’ (বিএফএস) চালুর দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটিকে। 

তবে ১১ বছরেও তা হয়নি। ২০২১ সালে ডিসেম্বরে রাজধানীর ঘাটারচর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ২৬ নম্বর রুটে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চালু করা হয়। বেসরকারি কোম্পানি ট্রান্স সিলভা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিআরটিসি যৌথভাবে তা চালু করে। কাউন্টারভিত্তিক ই-টিকিটিং সেবা ছিল। নির্ধারিত স্টপেজ থেকে টিকিট নিয়ে যাত্রীকে নির্ধারিত স্থানে নামতে হতো। কিন্তু এই রুটের অন্যান্য কোম্পানির বাস একীভূত না হওয়ায়, সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়। বেহাল পড়ে রয়েছে কয়েক কোটি টাকায় নির্মিত যাত্রী ছাউনিগুলো। কয়েকটির সব কিছুই চুরি হয়ে গেছে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এই পদ্ধতিতে বাস চালুর প্রচেষ্টা সফল হয়নি বাস মালিকরা সাড়া না দেওয়ায়। তারেক রহমানের সরকার নতুন করে জোর দিয়েছে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। 

রাজধানীতে অনুমোদিত রুটের সংখ্যা ৪১৮। সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির হিসাবে, কোম্পানির সংখ্যা ১২০। চলাচলের অনুমোদন রয়েছে সাত হাজারের বেশি বাসের। তবে সচল রুট ও কোম্পানির সংখ্যা যথাক্রমে ৯৮ ও ৬৬। আবার একই রুটে ৮-১০টি পর্যন্ত কোম্পানির বাস চলে। যাত্রী পেতে এগুলো পথে পথে থামে। আবার যাত্রী ধরতে এক কোম্পানির বাস আরেক কোম্পানির বাসকে পথ দেয় না। পথ আটকে দাঁড়ায়। এতে সড়কে একাধিক লেন বন্ধ হয়ে যানজট তৈরি হয়। 

ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে যেসব কোম্পানি বাস চলছে, সেগুলোকে একীভূত করে একটি কোম্পানি গঠন করা হবে। এ পদ্ধতিতে কোম্পানি বাস পরিচালনা করবে। বিনিয়োগের অনুপাতে মালিকরা মুনাফা পাবেন। চালক-শ্রমিকরা চুক্তিতে নয়, কোম্পানির মাসিক বেতনভুক্ত হবেন। বাসগুলো নির্ধারিত সময়ে ছাড়বে, নির্ধারিত স্থানে দাঁড়াবে ও যাত্রী তুলবে। কেউ কাউকে ওভারটেক করতে পারবে না। 



Leave Your Comments




জাতীয় এর আরও খবর