প্রকাশিত :  ০৫:২৭
২৭ অক্টোবর ২০২৬

তেলের দামে বড় পতন

তেলের দামে বড় পতন

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমে আসায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে যায়। তবে সৌদি আরবে হুথিদের নতুন হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১০টার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার বা শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে যায়। এতে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১১৪ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৮৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৮৮ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে উভয় ধরনের তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছিল।

এরআগে, সোমবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তেহরানে বৈঠক করেন। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো এবং শান্তি ও নিরাপত্তায় সহযোগিতা জোরদার করাই ছিল আলোচনার মূল লক্ষ্য। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চার দেশ আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে।

নয়াদিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসএস ওয়েলথস্ট্রিটের প্রতিষ্ঠাতা সুগন্ধা সচদেব বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠা তেলের বাজারে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির আশপাশে তেলবাহী জাহাজে ইরানের ধারাবাহিক হামলার পর ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলারের ওপরে উঠে যায়। গত এপ্রিলের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ দাম। সোমবারও দাম ১১৭ ডলারে পৌঁছেছিল।

তবে সৌদি আরবে হুথিদের নতুন হামলায় শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। বর্তমানে এই নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে।

এএনজেড রিসার্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরবরাহ, পরিবহন, মজুত ও তেল পরিশোধন খাতে চাপের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো কমেছে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে পরিশোধিত জ্বালানির মজুত গত পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ কম রয়েছে।



Leave Your Comments




শিল্প বাণিজ্য এর আরও খবর