প্রকাশিত : ০৭:১৪
২৬ অক্টোবর ২০২৬
মাত্র ৯৯৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকের অভিনয়শিল্পী সুজাত শিমুল এবং তাঁর স্ত্রী জান্নাতুন নেছা। ব্যতিক্রমী এই অঙ্ক বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে বিশেষ ভাবনা, যা তাঁদের বিয়েকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯ থেকে শুরু করে জীবনের পূর্ণতা-অপূর্ণতার দর্শন সব মিলিয়েই তাঁদের দেনমোহরের অঙ্ক ৯৯৯। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা উপস্থিত ছিলেন। জান্নাতুন নেছা থিয়েটার ও আবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে তাঁদের দেনমোহরের অঙ্কটি নিয়েই এখন বেশি কৌতূহল।
প্রথম আলোকে সুজাত শিমুল জানান, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকেই তারা চেয়েছিলেন দেনমোহরের অঙ্কটি হবে ব্যতিক্রমী। দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং বিশেষ অর্থবহ একটি সংখ্যা খুঁজছিলেন তারা। সেই ভাবনা থেকেই আসে ৯৯৯-এর ধারণা। বাংলাদেশে জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সেবা নেওয়া যায়। পরিচিত এই নম্বরটির সঙ্গে বিয়ের মতো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা। শিমুলের ভাষায়, বিয়ে জীবনের প্রয়োজনীয় একটি অংশ, যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নতুন অধ্যায় এবং আসে একধরনের পূর্ণতা।
তবে ৯৯৯ সংখ্যাটির মধ্যে আরেকটি অর্থও খুঁজে পেয়েছেন অভিনেতা। তার মতে, ৯৯৯-এর পরের সংখ্যাটি ১০০০। অর্থাৎ, পূর্ণতার ঠিক আগের অবস্থান যেন অপূর্ণতার প্রতীক। মানুষের জীবনেও সবকিছু কখনো পুরোপুরি পূর্ণ হয় না, কিছু ঘাটতি থেকেই যায়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত একটি যোগসূত্রও রয়েছে। শিমুলের শ্বশুর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেটিও ৯৯৯ বেছে নেয়ার অন্যতম কারণ।
দেনমোহর নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন অভিনেতা। তার মতে, বিয়েতে লাখ লাখ টাকার দেনমোহরের হিসাব অনেক সময় সম্পর্কের মধ্যে বিনিময় ও আস্থা-অনাস্থার প্রশ্ন সামনে আনে। ৯৯৯ টাকা দেনমোহরের মাধ্যমে তারা প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে একটি ভিন্ন বার্তা দিতে চেয়েছেন। বিশেষ করে নারী হিসেবে সাহসী একটি অবস্থান তুলে ধরার ভাবনাও ছিল তাদের। বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, লেখক-সাংবাদিক আনিসুল হকসহ দুই পরিবারের সদস্যরা।