প্রকাশিত :  ০৬:২৮
২৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৪৮
২৬ অক্টোবর ২০২৬

মক্কায় দুই বাংলাদেশির চুম্বনের ভিডিও ধারণ ও পোস্ট, সৌদির জেলে পশ্চিমবঙ্গের যুবক

মক্কায় দুই বাংলাদেশির চুম্বনের ভিডিও ধারণ ও পোস্ট, সৌদির জেলে পশ্চিমবঙ্গের যুবক

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির একটি ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক যুবকের বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনিও সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

ইন্ডিয়ান এক্সেপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুর্শিদাবাদের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন শেখ পেশায় একজন পরিযায়ী শ্রমিক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সৌদি আরবে কাজ করছেন। মক্কায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় তার উপস্থিতিতেই ওই বাংলাদেশি যুগল পরস্পরকে চুম্বন করেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় পাকিস্তানের এক যুবক সাহাবুদ্দিনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ওই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন। 

পরে ভিডিওটি স্যোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে সাহাবুদ্দিন শেখকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

মুর্শিদাবাদে সাহাবুদ্দিনের পরিবারের দাবি, নিছক মজা করার জন্যই ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন তিনি। এর পরিণতি এত ভয়াবহ হতে পারে, তা সাহাবুদ্দিন বা তার সঙ্গীরা কেউই ভাবতে পারেননি।

ভিডিওটি প্রকাশের অভিযোগে সৌদি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন সাহাবুদ্দিন। ২০২৩ সাল থেকে টানা তিন বছর ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

সাহাবুদ্দিনের মা কোহিনুর বিবি বলেন, ‘ও বড় কোনও অপরাধ তো করেনি। একটা ভিডিও ছেড়েছে বলে এভাবে জেল খাটতে হচ্ছে!’

কোহিনুর বিবি জানান, গত আট বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করছিলেন তার ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন সাহাবুদ্দিন। বিদেশ থেকে তার পাঠানো টাকাতেই সংসার চলত। কিন্তু ছেলে কারাগারে বন্দি থাকায় এখন আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবার। কোনও রকমে দিন কাটছে তাদের।

এদিকে, ওই বাংলাদেশি যুগলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ছেলেকে নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে কোহিনুর বিবির। সাহাবুদ্দিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত এই মা বলেন, ‘আমার ছেলের কী হবে জানি না। ভয়ে ভয়ে আছি।’

সাহাবুদ্দিনের পরিবার জানিয়েছে, তাকে সৌদির জেল থেকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনাতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু উত্তর মেলেনি।

উল্লেখ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বশির এবং সুইটি আখতার। 

সৌদি আরবের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভিতরে ‘অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করা’।

দুই বাংলাদেশি নাগরিকের অপরাধ কী ছিল, দণ্ড কী ভাবে কার্যকর হয়েছে, তাদের মরদেহ এখন কোথায় এবং বিচারে তাদের পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন কি না, এ সব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদির সরকারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ।


Leave Your Comments




আন্তর্জাতিক এর আরও খবর