প্রকাশিত : ০৬:২৬
২২ অক্টোবর ২০২৬
এবার ক্যানসার রোগীর মুখের ছবি বা সেলফি বিশ্লেষণ করে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা।
ম্যাসাচুসেটসের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাস জেনারেল ব্রিগহ্যামের গবেষকরা এ প্রযুক্তি তৈরি করেছেন। এর লক্ষ্য রোগীর জৈবিক বয়স নির্ধারণ এবং মৃত্যুঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন বয়স ও জাতিগোষ্ঠীর চার কোটির বেশি মুখের ছবি দিয়ে এআই মডেলটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেট ডিজিটাল হেলথে।
গবেষকরা দুটি টুল তৈরি করেছেন। এগুলোর নাম ‘এফএএইচআর-ফেইসএইজ’ ও ‘এফএএইচআর-ফেইসসারভাইভাল’।
প্রথম টুলটি মুখের ছবি বিশ্লেষণ করে রোগীর জৈবিক বয়স নির্ধারণ করে। এরপর সেই বয়সের ভিত্তিতে বেঁচে থাকার ঝুঁকি সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়। দ্বিতীয় টুলটি জৈবিক বয়স নির্ধারণের মধ্যবর্তী ধাপ ছাড়াই সরাসরি মুখের ছবি থেকে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনুমান করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, রোগীকে প্রকৃত বয়সের চেয়ে অন্তত পাঁচ বছর বেশি বয়স্ক দেখালে তার মৃত্যুঝুঁকি বেশি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে রেডিওথেরাপি নেওয়া ক্যানসার রোগীদের ওপর চালানো গবেষণায়, গড়ে চার বছরের পর্যবেক্ষণে তাদের মৃত্যুঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, যেসব রোগীকে প্রকৃত বয়সের চেয়ে অন্তত পাঁচ বছর কম বয়স্ক দেখিয়েছে এআই, তাদের মৃত্যুঝুঁকি ১৭ শতাংশ কম পাওয়া গেছে।
গবেষকদের মতে, মুখের বিভিন্ন অংশ বিশ্লেষণ করে এআই বয়স ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে। ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান ও মাদক সেবনের মতো অভ্যাসের সঙ্গেও মুখে বয়সের ছাপ পড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি রোগীর শারীরিক সক্ষমতা মূল্যায়ন এবং উপযুক্ত চিকিৎসা বেছে নিতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি বা অন্যান্য জটিল চিকিৎসার ঝুঁকি নির্ধারণে এটি কাজে আসতে পারে।
তবে শুধু মুখের ছবি দেখে ব্যক্তির আয়ু নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। প্রযুক্তিটি চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহারের আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।