প্রকাশিত :  ০৯:১২
১৮ অক্টোবর ২০২৬

‘চলুন, ফ্রান্সের বিপ্লবে যোগ দিই’— নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প

‘চলুন, ফ্রান্সের বিপ্লবে যোগ দিই’— নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দেশটিকে ‘বিপ্লবের জন্য উপযুক্ত জায়গা’ বলে উপহাস করেছেন । এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি বলেন, ‘চলুন, ফ্রান্সে গিয়ে বিপ্লবে যোগ দিই।’

এক প্রতিবেদনে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। 

উত্তাল ফ্রান্সের এই পরিস্থিতি নিয়েই ব্যঙ্গ করে ট্রাম্প বলেন, ‘চলুন ফ্রান্সে যাই? জায়গাটা চমৎকার। সেখানে কোনো দাঙ্গা নেই, কোনো বিপ্লব নেই। জানেন, বিপ্লবের জন্য ফ্রান্স যেন একেবারে আদর্শ জায়গা। এটা অবিশ্বাস্য! চলুন ফ্রান্সে গিয়ে বিপ্লবে যোগ দিই।’

এ ছাগা যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ফ্রান্সের সহিংসতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি এ পরিস্থিতির জন্য অভিবাসনকে দায়ী করে বলেন, ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলো অভিবাসীদের সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং সাংস্কৃতিক সামঞ্জস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান্স লেখেন, ‘বৈচিত্র্য ও সহমর্মিতার নামে পশ্চিমা উদারপন্থিরা তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশে নিয়ে এসেছে। তারা 

সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং সামঞ্জস্যের মৌলিক প্রশ্নগুলো উপেক্ষা করেছেন।’

তিনি আরও লেখেন, ‘তাদের সতর্ক করা হয়েছিল যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, কিন্তু তারা শোনেননি। আমি প্রার্থনা করি, অসাধারণ মানুষের সুন্দর দেশ ফ্রান্স যেন আরও ঐতিহাসিক স্থাপনা পুড়ে যাওয়ার আগেই এই উন্মাদনা থামাতে পারে। আশা করি, আমেরিকানরাও বিষয়টি থেকে শিক্ষা নেবেন। কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা আপনাদের দেশের জন্য এমন ভবিষ্যৎই চান।’

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিলগুলো একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিলের একাংশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিক্ষোভে অংশ নেন ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৮ লাখ।

বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ও আতশবাজি ছুড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।

প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার বলেন, শহরের ‘পুরো পুরো সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে গেছে’। মুখোশ পরা একদল তরুণ বিভিন্ন স্থানে পার্ক করে রাখা গাড়িতে আগুন দেয় এবং দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি


Leave Your Comments




আন্তর্জাতিক এর আরও খবর