সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সড়কের পাশ থেকে জাম, ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণিসহ অন্তত ১৪টি বড় গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার আদমপুর সড়কের ঘোরামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা বলে ধারণা স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর সড়কের ঘোরামারা এলাকায় সড়কের পাশের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। কেটে নেওয়া গাছগুলোর মধ্যে জাম, ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি রয়েছে বলে জানা গেছে। গাছগুলো কেটে ছোট ছোট খণ্ডে ভাগ করে ট্রাক বা পিকআপে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। ঘটনাস্থলে পড়ে রয়েছে কাটা গাছের গোড়া।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এক রাতেই এতগুলো বড় গাছ কেটে নিয়ে যেতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লাগার কথা। অথচ এত বড় ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। তাঁদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ একটি চক্র এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম ও হেলাল মিয়া বলেন, ঘোড়ামারা এলাকায় যেখান থেকে গাছগুলো কেটে নেওয়া হয়েছে, তার কাছাকাছিই রাজকান্দি বনরেঞ্জের কার্যালয় ও সড়কের চেকপোস্ট রয়েছে। এ ছাড়া এলাকায় পুলিশি টহলও থাকে। তাঁদের ভাষ্য, এতগুলো বড় গাছ কাটতে ও সরিয়ে নিতে তিন থেকে চার ঘণ্টা লেগে থাকতে পারে। এরপরও কীভাবে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হলো, তা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন।
তাঁরা আরও বলেন, এভাবে সড়কের পাশের গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বন্ধ করা না গেলে এলাকার সবুজ পরিবেশ ও বনজ সম্পদ হুমকির মুখে পড়বে। দ্রুত তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, ‘মূল সড়ক থেকে একসঙ্গে এতগুলো গাছ চুরির ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। আমার মনে হয়, এটি একটি বড় সিন্ডিকেট চক্রের কাজ।’ তিনি জানান, খবর পাওয়ার পরপরই বন বিভাগ, থানা-পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাঁদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা তানভির হোসেন বলেন, এলজিইডির সড়কের পাশ থেকে গাছ চুরির বিষয়টি তাঁরা শুনেছেন। ঘটনাটি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল আজম বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ তালুকদার বলেন, গাছ চুরির বিষয়টি তিনি যথাসময়ে অবগত হয়েছেন এবং উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। থানার ওসি ছুটিতে থাকায় তিনি ফিরে এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন আকর্ষণের জন্য পরিচিত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সড়কের পাশের গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পরিবেশসচেতন স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের মতে, সড়কের পাশের গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, ছায়া প্রদান এবং এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এ ধরনের ঘটনা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, পরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত, পাচার হওয়া কাঠ উদ্ধারের চেষ্টা এবং সড়কের পাশের গাছের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
Leave Your Comments