প্রকাশিত :  ১০:০৮
১৫ অক্টোবর ২০২৬

লন্ডনে পাইলগাঁও বিএন হাইস্কুলের শতবর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন

লন্ডনে পাইলগাঁও বিএন হাইস্কুলের শতবর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন

লন্ডন, ১২ অক্টোবর : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও বিএন হাইস্কুলকে কলেজে উন্নীত করা এবং শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তার লক্ষ্যে একটি ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক পুনর্মিলনীতে তাঁরা বলেন, শত বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক ও উচ্চশিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

গত ১২ অক্টোবর সোমবার পূর্ব লন্ডনের পাম ট্রি হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীরা অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও পরিচিতজনদের কাছে পেয়ে অনেকে স্মৃতিচারণায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আনন্দঘন এ পুনর্মিলনীতে বিদ্যালয়ের শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য স্মরণের পাশাপাশি এর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।

শতবর্ষ উদ্‌যাপন কমিটির চেয়ারম্যান মহিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান দারা ও উপস্থাপক মিছবাহ জামাল।

অনুষ্ঠানে মহিব চৌধুরী বলেন, ‘এই মিলনমেলায় সবাইকে একসঙ্গে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আমাদের বিদ্যালয়ের অনেক কৃতী শিক্ষার্থী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে একটি ট্রাস্ট গঠন করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক করে গড়ে তোলা সম্ভব। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করলে অবশ্যই এগিয়ে যেতে পারব।’

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও তাঁদের বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানটিকে কলেজে উন্নীত করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁরা বলেন, পাইলগাঁও বিএন হাইস্কুল দীর্ঘ এক শতাব্দী ধরে এলাকার মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। এই ঐতিহ্যকে ধরে রেখে শিক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করা এবং নতুন প্রজন্মের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

শতবর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন উপলক্ষে বিদ্যালয়ের ছয়জন প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন মাস্টার, মুকুল চন্দ্র রায়, মুহিব চৌধুরী, মোহাম্মদ আজিজুর রহমান দারা, কাউন্সিলর ফয়জুর রহমান ও শিল্পী আলাউর রহমান। এ ছাড়া প্রয়াত ফজলুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের হাতেও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

সম্মাননা পাওয়ার পর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, প্রবাসে থেকেও বিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে সহপাঠী ও পরিচিতজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ তাঁদের পুরোনো দিনের স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি ও সম্পর্ক তাঁদের কাছে বিশেষ আবেগের বিষয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শত বছরের পথচলায় প্রাক্তন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বিশেষভাবে প্রবীণ শিক্ষক মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন মাস্টারের অবদান তুলে ধরেন উপস্থিত ব্যক্তিরা। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান, অনুপ্রেরণা ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নুরুল হক দুলু, শাহাব আলী, জুনু মিয়া, আকবর হুসাইন, আবদুল হান্নান, আমির হুসাইন কাথল, দিলওয়ার হুসাইন, ফারুক আহমেদ, মান্না রায় ও শিশু মিয়া। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সাবেক স্পিকার কাউন্সিলর রহিমা রহমান, বাংলাদেশ সেন্টারের সেক্রেটারি তোফাজ্জল মিয়া, কাউন্সিলর শাহ সানাওয়ার হুসাইন ও সাবেক স্পিকার আহবাব হুসাইন।

শতবর্ষ উদ্‌যাপন কমিটির নেতারা বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের বিদ্যমান সমস্যা সমাধান, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এ আয়োজন শুধু শতবর্ষ উদ্‌যাপন কিংবা পুরোনো স্মৃতি রোমন্থনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং বিদ্যালয়কে কলেজে উন্নীত করা, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং একটি ট্রাস্ট গঠনের ভাবনা নতুন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। শত বছরের ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয় এ মিলনমেলা।


--


Leave Your Comments




প্রবাসী কমিউনিটি এর আরও খবর