প্রকাশিত :  ০৬:২৯
০৮ অক্টোবর ২০২৬

আন্দোলনের মধ্যেই এনসিটির দায়িত্ব পাচ্ছে ডিপি ওয়ার্ল্ড

আন্দোলনের মধ্যেই এনসিটির দায়িত্ব পাচ্ছে ডিপি ওয়ার্ল্ড

মৌলিক তথ্য গোপন রেখেই চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া হচ্ছে। গত ১ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনার খসড়া চুক্তি অনুমোদন করে। এর একদিন পর বুধবার জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় এই টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে ডিপি ওয়ার্ল্ড।

প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় চূড়ান্ত চুক্তি হচ্ছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ (সাবেক বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) আজ বিকেলে ‘কনসেশন’ বা ‘পরিচালনার অধিকার’ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইসা করিমসহ ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। 

বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার বিরুদ্ধে বন্দরের শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যেই সরকার চুক্তিটি করতে যাচ্ছে। এনসিটি নিয়ে চুক্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দর অচল করার ঘোষণা দিয়েছে একাধিক শ্রমিক সংগঠন। এর মধ্যে বিএনপিপন্থি এবং জামায়াত সমর্থিত শ্রমিক সংগঠন রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। 

জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ১৫ বছর এনসিটি পরিচালনা করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। কিন্তু তারা মোট কত বিনিয়োগ করবে, নতুন কী যন্ত্রপাতি সংযুক্ত করবে, প্রতি কনটেইনার হ্যান্ডলিং বাবদ বন্দর কত টাকা ফি পাবে, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করলে বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে– গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয়ে কথা বলতে চাইছে না বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দরের পর্ষদে থাকা দুই সদস্য এ ব্যাপারে সমকালকে কিছু জানাতে পারেনি। 

জানতে চাইলে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সমকালকে বলেন, ‘দেশি-বিদেশি ও বহুজাতিক তিনটি পক্ষ প্রস্তাব জমা দিলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানিকেই গত ১ সেপ্টেম্বর সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। এখন হবে চূড়ান্ত চুক্তি। দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই সরকার এই চুক্তি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এর বেশি কিছু এখন বলা যাবে না।’

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সমকালকে বলেন, ‘দেশ তো শুধু মন্ত্রীর নয়, আমাদেরও। চুক্তির আগে দেশের ১৬ কোটি মানুষ কেন জানবে না বিদেশি প্রতিষ্ঠান এনে আমাদের কী লাভ হচ্ছে? কত টাকা নতুন বিনিয়োগ করছে তারা? চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে?’ তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে এসব মৌলিক তথ্য দেশবাসীকে জানানো উচিত। 

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান চুক্তি উপলক্ষে এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। গতকাল বিকেলে তাঁকে ফোন করা হলেও তিনি কল ‘রিসিভ’ করেননি। প্রসঙ্গ জানিয়ে খুদেবার্তা পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি। বন্দরের দুজন বোর্ড মেম্বারের কাছ থেকে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তারা ‘কিছু জানেন না’ বলে মন্তব্য করেন। এ ব্যাপারে কথা বলতে ‘বিধিনিষেধ রয়েছে’ বলেও জানান তারা।

এনসিটি বিদেশিদের হাতে না দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। জাতীয়তাবাদী সিবিএ নেতা ও জামায়াত সমর্থিত ইসলামী সংঘের শ্রমিক নেতারাও আছেন আন্দোলনে। এই দাবিতে টানা ৯ দিন বন্দর অচল করে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। গত দুই মাস ধরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সর্বশেষ ৫ সেপ্টেম্বর বন্দর ভবনের সামনে হয়েছে বিক্ষোভ কর্মসূচি। 

চট্টগ্রাম বন্দরের চালু থাকা চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল সবচেয়ে বড়। চট্টগ্রাম বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া কনটেইনারের ৪৪ শতাংশ হয় এনসিটিতে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এবং সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) কাঠামোর অধীনে এনসিটি পরিচালনার কাজ ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সে সময় ওই উদ্যোগ পরিণতি পায়নি। অন্তর্বর্তী সরকার এনসিটির দায়িত্ব বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার কার্যক্রম  শুরু করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এ বিষয়ে চুক্তির জোর আলোচনা শুরু হলে আন্দোলনে যায় বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। অন্তর্বর্তী সরকার গত ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটি বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে। পরে বিএনপির নতুন সরকার গত ৪ জুন দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়।

ডিপি ওয়ার্ল্ড যেসব কারণে চূড়ান্ত হলো 

এনসিটি নিয়ে দেশি, বহুজাতিক ও বিদেশি তিনটি পক্ষ আলাদাভাবে প্রস্তাব জমা দিলেও ডিপি ওয়ার্ল্ড সবার আগে প্রস্তাব জমা দেয়। তাছাড়া বিশ্বের ৪০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক বন্দরে কাজ করার অভিজ্ঞতা, দক্ষ জনবল ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সক্ষমতা থাকা ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণ এগিয়ে দিয়েছে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে।

তা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) ও সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) কাঠামোর ভিত্তিতে এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাব দেয় ডিপি ওয়ার্ল্ড। এ ব্যবস্থায় টার্মিনাল পরিচালনা, মাশুল আদায় ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের দায়িত্ব থাকবে অপারেটরের হাতে। বিনিময়ে বন্দর শুধু নির্ধারিত রাজস্ব পাবে। 

‘সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়াম’ নামের তিন প্রতিষ্ঠানের জোট ইজারা না চেয়ে এনসিটি শুধু পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছিল। দেশি বহুজাতিক গ্রুপ এমজিএইচ গ্রুপ পিপিপিএর আওতায় দীর্ঘ মেয়াদে ইজারা চেয়েছিল। 

যা ছিল ডিপি ওয়ার্ল্ডের খসড়া প্রস্তাবে 

এনসিটি পরিচালনা বাবদ ‘কনসেশন ফি’ হিসেবে ডিপি ওয়ার্ল্ড তাদের খসড়া প্রস্তাবে দুই কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। প্রতি টিইইউ কনটেইনার থেকে আদায় হওয়া গড় আয়ের ভিত্তিতে একটি স্তরভিত্তিক রয়্যালটি কাঠামো উল্লেখ করেছে তারা। এ কাঠামোয় সর্বনিম্ন স্ল্যাবে (১০৫ ডলারের কম গড় আয়ে) রয়্যালটি ধরা হয়েছে প্রতি টিইইউ ৪২ দশমিক ৫০ ডলার। সর্বোচ্চ স্ল্যাবে (২১০ ডলার বা তার বেশি গড় আয়ে) যা ১৪১ দশমিক ৫০ ডলার। মাঝের প্রতিটি স্তরের পাঁচ ডলার ব্যবধানে গড় আয় বাড়ার সঙ্গে রয়্যালটিও বাড়ানো হয়েছে। তারা প্রতি টিইইউ কনটেইনারে নির্দিষ্ট রেভিনিউ-ভিত্তিক প্রস্তাব দিয়েছে। এতে করে অপারেটরের পারফরম্যান্স খারাপ হলে বন্দরের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার শঙ্কা আছে। তারা সর্বনিম্ন রেভিনিউ গ্যারান্টি উল্লেখ করেছে ৫২ মিলিয়ন ডলার। ডিপি ওয়ার্ল্ড আরও বলেছে, গ্রস রাজস্ব প্রতি টিইইউতে ১২০ ডলার হলে ডিপি ওয়ার্ল্ড বন্দরের সঙ্গে শেয়ার করবে প্রতি টিইইউতে ৫৮ দশমিক ৫০ ডলার। ‘সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়াম’ এবং এমজিএইচ গ্রুপ এর চেয়ে বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। 

প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই কাজ 

চট্টগ্রাম বন্দরে লদিয়া টার্মিনাল ও পানগাঁও অভ্যন্তরীণ টার্মিনালও বিদেশি অপারেটরকে পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। কিন্তু সেই চুক্তি নিয়ে এতটা বিতর্ক তৈরি হয়নি বন্দরে। তৈরি হয়নি ক্ষোভ। আসেনি কোনো আন্দোলন কর্মসূচিও। ঠিক বিপরীত অবস্থান দেখা যাচ্ছে ডিপি ওয়ার্ল্ড ঘিরে। কারণ, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে তাকে কাজ দেওয়া হচ্ছে না। যে টার্মিনালের জন্য তাদের বেছে নেওয়া হচ্ছে সেখানে নেই বাড়তি বিনিয়োগ করার সুযোগ। 

এনসিটি কেন ব্যতিক্রম টার্মিনাল

চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা চারটি টার্মিনালের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও আধুনিক টার্মিনাল হচ্ছে এনসিটি। এই টার্মিনাল নির্মাণে ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহের মাধ্যমে আধুনিক করতে ইতোমধ্যে দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। এক হাজার মিটার দীর্ঘ এই টার্মিনালেই একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি জাহাজ নোঙ্গর করতে পারে। প্রতিবছর বন্দর ২০ ফুট এককের যে ৩৩ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডেল করে তার প্রায় ৪৪ শতাংশ এককভাবে হ্যান্ডেল করে এনসিটি। দীর্ঘ সময় সাইফ পাওয়ারটেকের কাছে এই টার্মিনাল ছিল। এখন এটি পরিচালনা করছে নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান ড্রাইডক। তারা পরিচালনাতে আসার পর এই টার্মিনালের গতি আরও বেড়েছে। আন্দোলনকারীদের যুক্তি,  দেশি প্রতিষ্ঠানের হাতেই যখন গতিশীল রয়েছে, তখন বিদেশি প্রতিষ্ঠান এনে কেন চট্টগ্রাম বন্দরকে হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে। 

যা বলছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা

চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক বোর্ড সদস্য জাফর আলম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়ম মানলে চুক্তির সব তথ্য প্রকাশ্যে আনা যাবে না। মৌলিক কিছু বিষয় চাইলে খোলাসা করতে পারত সরকার। তৈরি থাকা বন্দরের সবচেয়ে বড় টার্মিনালটি বিদেশিদের দিলে আমাদের কী কী লাভ হবে। তারা নতুন কত টাকা বিনিয়োগ করবে– এটা অন্তত জানানো উচিত ছিল।’

বন্দরের জাতীয়তাবাদী শ্রমিক নেতা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গোপন এই চুক্তি মানব না আমরা। যেদিন চুক্তি হবে সেদিন থেকেই অচল থাকবে চট্টগ্রাম বন্দর।’ 

স্কপের যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার কামাল খান বলেন, ‘বছরে গড়ে ৪৪ শতাংশ কনটেইনার হ্যান্ডেল করে শীর্ষে রয়েছে এনসিটি। গত অর্থবছরও এনসিটি দিয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে। অথচ সেই টার্মিনালই গোপনে দেওয়া হচ্ছে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে। তৈরি থাকা এই টার্মিনাল কোনোভাবেই দেওয়া যাবে না বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে। নতুন করে আন্দোলন কর্মসূচি দেব আমরা।’ 

বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘের মশাল মিছিল

এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এক বিশাল মশাল মিছিল বের করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় শ্রমিক সংঘ কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের করা হয়। বন্দর নতুন মার্কেট থেকে শুরু হয়ে কলোনির বিভিন্ন রোড প্রদক্ষিণ করে বন্দর পুরাতন মার্কেটে মোড়ে গিয়ে এটি শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ববর্তী সমাবেশে ইসলামী শ্রমিক সংঘের সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে কোনো অবস্থাতেই এনসিটি নিয়ে কোনো চুক্তি বন্দর শ্রমিকরা মেনে নেবে না।

শ্রমিক সংঘের সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন শ্রমিক কর্মচারীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ডকুমেন্ট, কালেকশন ও আন-স্টাফিং বন্দরের হাতে রেখে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালনার আহ্বান জানান। 




Leave Your Comments




শিল্প বাণিজ্য এর আরও খবর