প্রকাশিত : ১৬:৩৮
০৫ অক্টোবর ২০২৬
১. অনুভব
সব আপদই বিপদ নয়
কিছু আপদে
বিপদমুক্তি হয়।
২. যৌবন
যৌবনে আমি মিছিল করেছি
যুদ্ধ করেছি।
মিছিল আমায়
রাজপথ থেকে আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলেছে
যুদ্ধ আমায়
আস্তাকুঁড় থেকে নিজের ঘরে ফিরিয়েছে।
৩. পরিবর্তন
শ্লোগান পাল্টে হয়ে যায় ফিসফাস
এমন কেউ আসতে পারে
যার ফিসফাস পাল্টে
হতে পারে প্রচণ্ড চিৎকার।
সে চিৎকারে ভাঙতে পারে
বন্ধ ঘরের কপাট।
৪. একাকিত্বের অহংকার
এমন সুনসান নীরবতা
এবং সুগভীর একাকিত্ব
কেবল ঈশ্বরকেই মানায়।
একাকিত্ব ও নীরবতা
ভয়ঙ্কর অহংকারের নাম
সকল অহংকার ঈশ্বরেই হারায়।
৫. জলস্তম্ভ
এক.
অনেক দিন হলো
কষ্ট পাই না
তাই কষ্টগুলো
দুঃখ হয়ে ধরা দিলো।
সব দুঃখই কষ্ট নয়
কষ্টগুলোই দুঃখ হয়ে রয়।
দুই.
আমাকে যারা আপন করেছে
তারা সবাই কষ্টের সাগরে ভেসেছে।
তিন.
আমি যাদের কাছ থেকে দূরে ছিলাম
তারা সবাই ভালো আছে।
৬.যাপিত জীবন
আমাদের দিন কাটে তো
রাত কাটে না
রাত কাটে তো
ভোর আসে না।
তবে, দিব্যি কেটে যাচ্ছে
মাস, বছর, যুগ তারপর জীবন।
৭. আননের কথোপকথন
আনন মৃদু স্বরে কুয়াশাকে জিজ্ঞেস করল, তোমার আকাশটা কেমন?
কুয়াশা আঁধবোজা চোখে বসেছিলো। আননের প্রশ্ন শুনে চোখ মেলে তার দিকে তাকিয়ে বলল, সাদামাটা। খুবই সাধারণ।
আনন আবার জিজ্ঞেস করল, সাদামাটা হবে কেন? আমার আকাশ তো নীল।
কুয়াশা বলল, আমার আকাশ আমার নাভীমূল থেকে উর্ধ্বাঙ্গ পর্যন্ত। এ জন্যেই সাদামাটা।
আনন বলল, আমার আকাশ আমার উর্ধ্বাঙ্গ ছাড়িয়ে অনেক দুরে বিশাল শূন্যতার মাঝে বিস্তৃত। শুধুই নীল আর নীল।
কুয়াশা আবারো চোখ আঁধবোজা হয়ে কি এক গভীর চিন্তায় ডুবে গেলো।
ওদিকে, আনন ভাবছিলো, আকাশ আবার নাভীমূল থেকে উর্ধাঙ্গ পর্যন্ত হয় নাকি!
কিভাবে!
৮. শেষোবধি
মোমবাতি কি শেষমেশ জেনেছিলো
যে সুতো সে বুকের ভেতর পুষেছিলো
সেই সুতোই তার সর্বাঙ্গ পুড়িয়েছিলো।