প্রকাশিত :  ০৯:১৫
০৪ অক্টোবর ২০২৬

২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত

২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশকে এখন আর শুধু দাতা-গ্রহীতা সম্পর্কের দৃষ্টিতে দেখে না, বরং ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি বলেন, বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের কর্ম-অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাইকেল মিলার বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অসীম। দেশটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতির একটি এবং সম্ভাবনা রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যেই বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি অর্থনীতির তালিকায় স্থান করে নেওয়ার।’

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে তার উন্নয়ন অগ্রযাত্রার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। এই পর্বের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ, রাজনৈতিক রূপান্তর, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকির মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইইউ রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ (অস্ত্র ছাড়া সবকিছু) বাণিজ্য অগ্রাধিকার সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে অংশীদারিত্ব থাকলেও এখন আর সেই পুরোনো সম্পর্কে আটকে থাকা সম্ভব নয়। ইইউ এখন বাংলাদেশের সঙ্গে আরও উচ্চাভিলাষী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। এলডিসি থেকে মসৃণ উত্তরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পুরোপুরি শেষ করেনি—এমন কোনো দেশের সঙ্গে ইইউর পক্ষ থেকে এ ধরনের বাণিজ্য প্রস্তাব দেওয়া এটাই প্রথম।

বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুষ্ঠু পরিবেশ ও ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভূ-রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের চাপ সামাল দিতে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ও স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা অপরিহার্য।

এ ছাড়া চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা এখনো সম্পন্ন হয়নি। এই সংস্কার কার্যক্রমকে সফলভাবে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।



Leave Your Comments




জাতীয় এর আরও খবর