প্রকাশিত :  ০৫:৪১
০৪ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনি বাহিনীর হামলায় ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহতের দাবি

ইয়েমেনি বাহিনীর হামলায় ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহতের দাবি

ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে গত কয়েক দিনে শত শত হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই এমন দাবি করেছে সরকারপন্থি বাহিনী। তবে নিহতের সংখ্যা বা হামলার দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি শনিবার বলেন, গত কয়েক দিনে হুথিদের অবস্থান, সামরিক তৎপরতা ও সক্ষমতা লক্ষ্য করে ২৫৭টি সুনির্দিষ্ট অভিযান চালানো হয়েছে।

আল-নাজিলি বলেন, এসব অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে।

তার দাবি, হামলায় অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহত এবং ১৭০টি সামরিক যান ও ভারী সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে।

তবে সরকারি বাহিনীর কতজন সদস্য হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি। অন্যদিকে, হুথিরাও এসব হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি।

আল-নাজিলি জানান, সানা, মিদি ও বাকিমসহ আল-জাওফ, মারিব, আল-বায়দা ও লাহিজের বিভিন্ন ফ্রন্টে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। তবে সবচেয়ে তীব্র লড়াই চলছে তাইজ এলাকায়।

এর এক দিন আগে সরকারি বাহিনী দাবি করেছিল, ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযানে ১ হাজার ৫৪০ হুথি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছে।

সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর তাইজ গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শহরের আশপাশে সরকারি বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক গোলাবর্ষণ চলছে। বিভিন্ন ফ্রন্টেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সংঘাতে বেসামরিক মানুষও নিহত হয়েছেন। ধুবাব এলাকায় একটি আবাসিক এলাকায় গোলার আঘাতে ছড়িয়ে পড়া ধাতব টুকরার আঘাতে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সরকারি বাহিনী আরও জানিয়েছে, তীব্র লড়াইয়ের পর তাইজের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সামা দুর্গের নিয়ন্ত্রণ তারা নিয়েছে।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তাইজের আল-হুবান ক্রসিংও বন্ধ করে দিয়েছে ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি হুথিদের  নিয়ন্ত্রিত আল-হুবান এলাকার সঙ্গে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ শহরকে যুক্ত করেছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, তাইজে হুথি যোদ্ধাদের ঢোকার একটি চেষ্টা, ওই এলাকায় হামলা এবং সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পর নিরাপত্তার কারণে ক্রসিংটি বন্ধ করা হয়েছে।

মানবিক কারণে ২০২৪ সালে বেসামরিক মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার আগে ক্রসিংটি টানা নয় বছর বন্ধ ছিল।

তথ্যসূত্র: সামা টিভি


Leave Your Comments




আন্তর্জাতিক এর আরও খবর