প্রকাশিত : ১৪:২৩
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর একটি মন্দিরে কথিত ‘ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে’ অনুষ্ঠানে অন্য ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর ব্যবহার ও মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আহসান। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।
রিটটি গত ৩০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে দায়ের করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিএমপি কমিশনার, লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ও চকবাজার থানার ওসিকে বিবাদী করা হয়।
রিটে বলা হয়, গত ১০ জুলাই রাজধানীর ওই মন্দিরে তাসনুভা আনান শিশিরকে ‘কনে’ হিসেবে উপস্থাপন করে বিয়ের অনুষ্ঠান করা হয়। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনাটি বাংলাদেশের প্রথম ‘ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে’ হিসেবে প্রচারিত হয়। তবে আবেদনকারীর অভিযোগ, অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত পরিচয়পত্রের বৈধতা ও পরিচয় নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
রিটে দাবি করা হয়েছে, ‘শিশির বিশ্বাস’ নামে মন্দির কর্তৃপক্ষকে দেওয়া এনআইডির নম্বরটি প্রকৃতপক্ষে মো. জাহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির। অন্যের এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে নাম, ছবি, পিতা-মাতার নাম ও জন্মতারিখ পরিবর্তনের মাধ্যমে ‘শিশির বিশ্বাস’ নামে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, বিষয়টি শুধু কথিত ‘ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে’কে ঘিরে নয়; অন্য ব্যক্তির এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয় তৈরির অভিযোগও এর সঙ্গে জড়িত। তার ভাষ্য, অভিযোগগুলো তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
রিটে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০২৩-এর ২৩ ও ২৭ ধারা, দণ্ডবিধির ৪১৯, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪৯৬ ধারা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ৩৭৭ ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪, ১৫৬ ও ১৫৭ ধারা এবং পুলিশ আইন, ১৮৬১-এর ২৩ ধারায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। রিটে ২০২৩ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠিরও উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটের আগে গত ২৪ আগস্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ‘ডিমান্ড অব জাস্টিস’ নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগে পরে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সেই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করলেন।