প্রকাশিত :  ১৩:২৬
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: ৯ লাখ টাকায় আপস রফা!

বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: ৯ লাখ টাকায় আপস রফা!

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মীমকে (২৪) গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় আসামিপক্ষের সঙ্গে নিহতের পরিবারের ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। আপসনামায় বাদীপক্ষ সই করেছে এবং আসামি জামিনে মুক্তি পেলে বা খালাস পেলে তাদের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে।

আইনজীবী আলমগীর হোসেন বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু আদালতে সামনে সাংবাদিকদের বলেন, "দাফন-কাফনবাবদ এক লাখ টাকা এবং নিহত নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসানের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।”

মেহেদীর ভাই, মামলার বাদী মোক্তাদির ইসলাম আপসের বিষয় স্বীকার করলেও কত টাকায় আপস হয়েছে তা বলেননি।

গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাপা দেয় ২৪ বছর বয়সি মেহেদীকে।

পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন গাড়িটির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই রাতেই তাকে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় গাড়ি চালক আকাশ মারককে আসামি করা হলেও চালকের আসনে থাকা ওই কিশোরের নাম ছিল না।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার পর বুধবার ওই কিশোরকে (১৭) গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই আরেফীন ইসলাম।

ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার শিশু আদালত-৮ এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির ১৭ বছরের ওই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।

শুনানির পর ওই কিশোরের আইনজীবী আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের আপসের কথা বললে সাংবাদিকরা পরে মামলার বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে মেহেদীর ভাই মোক্তাদির বলেন, "মামলার বিষয়ে আপস হয়েছে। কত টাকায় আপস হয়েছে জানি না। আমার মামা জানেন।''

আপসের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আরেফীন ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।

তদন্তে এর প্রভাবে পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "না, আমরা আমাদের মত তদন্ত করে যাব।"


Leave Your Comments




জাতীয় এর আরও খবর