প্রকাশিত :  ০৯:৪৮
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৪৯
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে মাছ ধরার জালে পেঁচিয়ে মৃত্যুর মুখে অজগর, দুই ঘণ্টার চেষ্টায় মিলল মুক্তি

শ্রীমঙ্গলে মাছ ধরার জালে পেঁচিয়ে মৃত্যুর মুখে অজগর, দুই ঘণ্টার চেষ্টায় মিলল মুক্তি

সংগ্রাম দত্ত: মাছ ধরার জালে শক্তভাবে পেঁচিয়ে মৃত্যুর মুখে পড়েছিল একটি অজগর। জাল থেকে বের হতে না পেরে ছটফট করছিল সাপটি। খবর পেয়ে ছুটে যান বন্যপ্রাণী সেবাকর্মীরা। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় জাল কেটে অক্ষত অবস্থায় অজগরটিকে উদ্ধার করা হয়।

 বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে চায়ের স্বর্গরাজ্য ও পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরের উকুলবেড়ির বিলে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে উকুলবেড়ির বিলে রুমন মিয়ার মাছ ধরার জালে অজগরটি পেঁচিয়ে আটকা পড়ে। রাতেই বিষয়টি বুঝতে পারেন রুমন মিয়া। তবে তখন অন্ধকার থাকায় সাপটি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। সকালে তিনি বিষয়টি সাবেক ইউপি সদস্য তাহের আলী সব্দরকে জানান।

পরে তাহের আলী সব্দর বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

এ সময় দেখা যায়, অজগরটি মাছ ধরার জালের ভেতর শক্তভাবে পেঁচিয়ে আছে। জাল থেকে নিজেকে ছাড়াতে না পেরে সাপটি ছটফট করছিল। ফলে সতর্কতার সঙ্গে জাল কেটে তাকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সাবেক ইউপি সদস্য তাহের আলী সব্দর ও নৌকার মাঝি হায়েদ মিয়ার সহযোগিতায় বন্যপ্রাণী সেবাকর্মীরা ধীরে ধীরে জাল কাটতে থাকেন। অজগরটি যাতে আঘাত না পায়, সে জন্য প্রতিটি ধাপেই সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর জাল থেকে অজগরটিকে সম্পূর্ণ মুক্ত করা সম্ভব হয়।

উদ্ধারের পর দেখা যায়, অজগরটির শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাত লাগেনি। পরে সেটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে অজগরটির জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সময়মতো খবর পাওয়ায় সেটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অজগরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর লোকালয়ে চলে আসার ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বন্যপ্রাণী সেবাকর্মীদের ভাষ্য, খাদ্যসংকটের পাশাপাশি বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের ওপর মানুষের চাপ বাড়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের চারদিকে চা-বাগান ও বনাঞ্চল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শ্রেণির প্রভাবশালী গোষ্ঠী বনাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমি দখল করে জনবসতি, রিসোর্টসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ও বাগান গড়ে ওঠায় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে। এর ফলে বিষধর শঙ্খচূড়সহ বিভিন্ন সাপ, অজগর এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণী খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসেই বিষধর শঙ্খচূড়সহ বড় আকারের অজগর মিলিয়ে প্রায় ১৭টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় হাইল হাওরের উকুলবেড়ির বিলে মাছ ধরার জালে অজগর আটকা পড়ার ঘটনাটিও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও মানুষের কর্মকাণ্ডের সংঘাতের বিষয়টি সামনে এনেছে।


Leave Your Comments




সারাদেশ এর আরও খবর