প্রকাশিত :  ০৯:২৬
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কোনো ভবন বা যন্ত্রপাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়’

‘ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কোনো ভবন বা যন্ত্রপাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়’
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট ভবন বা যন্ত্রপাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দেশটির অর্জিত জ্ঞান, দৃঢ় সংকল্প ও দক্ষ মানবসম্পদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাই সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেও ইরানের এই সক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে তেহরান। খবর ইরনার।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের প্রতিনিধিদল এসব কথা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের আগ্রাসনে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। পারমাণবিক প্রযুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দেশটির প্রবেশাধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা একটি গর্বিত জাতির জ্ঞান, দৃঢ় সংকল্প ও মানবসম্পদের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই সক্ষমতা কেবল ভবন বা যন্ত্রপাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্থাপনায় হামলা চালানো যেতে পারে এবং বিজ্ঞানীদের হত্যা করা হতে পারে। কিন্তু মানুষের মধ্যে যখন বিজ্ঞান শিকড় গেড়ে বসে, তখন তা টিকে থাকে, বিকশিত হয় এবং এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের বাস্তবতা এটাই কোনো শক্তিই এটি পরিবর্তন করতে পারবে না।

আইএইএর বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিদল জানায়, দেশটির পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অর্জিত সাফল্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, সঞ্চিত জ্ঞান, বিশেষায়িত মানবসম্পদ এবং নিজস্ব যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো উন্নয়নের ফল। এর মাধ্যমে ইরান একটি পরিণত ও টেকসই বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলেছে, যা দেশের প্রয়োজনের বড় একটি অংশ পূরণ করছে।
ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি কৃষি, পরিবেশ সুরক্ষা, ফসলের উন্নয়ন, কীটপতঙ্গ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য সংরক্ষণ এবং পানি ও সার ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

চিকিৎসা ও শিল্প খাতেও রেডিওআইসোটোপ উৎপাদন ও ব্যবহার, বিকিরণ প্রয়োগ ও জীবাণুমুক্তকরণ এবং বিকিরণভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ইরান সক্ষমতা অর্জন করেছে। এসব কার্যক্রমে বিকিরণ সুরক্ষা, পর্যবেক্ষণ, পরিমাপ ও শনাক্তকরণ সক্ষমতাও ব্যবহার করা হচ্ছে।

বৈঠকে ইরান একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য বিধিনিষেধেরও সমালোচনা করে। দেশটির প্রতিনিধিদল জানায়, কয়েক দশক ধরে এসব অবৈধ পদক্ষেপ ইরানের প্রযুক্তিগত সহায়তা, জ্ঞান ও প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত করেছে।
ইরানের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের রাষ্ট্রগুলোর অবিচ্ছেদ্য অধিকারের পরিপন্থি। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) আওতাধীন উন্নত দেশগুলোর শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার উন্নয়নে সহযোগিতার বাধ্যবাধকতার সঙ্গেও এসব পদক্ষেপ সাংঘর্ষিক।

ইরানি প্রতিনিধিদল আইএইএকে এসব বিধিনিষেধের প্রভাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানায়। সংস্থাটির নীতিনির্ধারণী অঙ্গগুলোর উচিত এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ বন্ধের আহ্বান জানানো।

বিবৃতিতে আইএইএর প্রতিবেদনে একতরফা নিষেধাজ্ঞা এবং সাম্প্রতিক আগ্রাসনের কারণে ইরানের পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর পড়া প্রভাবের কোনো উল্লেখ না থাকায় হতাশা প্রকাশ করে তেহরান।
প্রতিবেদনটি সাধারণ সম্মেলনে উপস্থাপনের আগে আইএইএকে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

সূত্র : ইরনা


Leave Your Comments




বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর