প্রকাশিত : ০৫:৫৮
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সামিট এলএনজি টার্মিনাল-২ (এসএলএনজি-২) প্রকল্পের বিল্ড, ওন, অপারেট, ট্রান্সফার (বিওটি) চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সামিট। পেট্রোবাংলা ও সরকারের কাছে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চুক্তিটি পুনর্বহাল করা হলে বাংলাদেশের প্রায় ১১০ কোটি মার্কিন ডলার সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।
সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) সামিটের দেওয়া চিঠির বিষয়ে দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে এক জ্যেষ্ঠ পেট্রোবাংলা কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।
সামিটের দাবি, বিওট মডেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ১৫ বছর পর কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ), মুরিং ব্যবস্থা ও সাবসি পাইপলাইনের পূর্ণ মালিকানা পাবে পেট্রোবাংলা।
অন্যদিকে বর্তমানে বিবেচনাধীন বিল্ড-ওন-অপারেট (বিওও) কাঠামোতে পেট্রোবাংলা এসব সম্পদের মালিকানা পাবে না। এতে বাংলাদেশের আনুমানিক ৮৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে বলে সামিটের দাবি।
সামিটের চিঠিতে এফএসআরইউর চার্টার বা ভাড়া ব্যয়ের পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিওও ভিত্তিতে প্রস্তাবিত তৃতীয় এফএসআরইউর দৈনিক ভাড়া হতে পারে ৩ লাখ ৪২ হাজার মার্কিন ডলার। বিপরীতে এসএলএনজি-২ প্রকল্পে এই ব্যয় ধরা হয়েছিল দৈনিক ৩ লাখ ডলার।
সামিটের হিসাবে, শুধু এই খাতেই ১৫ বছরে প্রায় ২৩ কোটি মার্কিন ডলার সাশ্রয় হবে।
প্রকল্পটি ইতিমধ্যে অনেকটা এগিয়ে গেছে উল্লেখ করে সামিট জানিয়েছে, এতে প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রয়োজনীয় জরিপও সম্পন্ন হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত এফএসআরইউ চুক্তি পুনর্বহাল করে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য পেট্রোবাংলার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তাও শক্তিশালী হবে।
সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে পেট্রোবাংলার এলএনজি সরবরাহ চুক্তিও প্রকল্পটির অন্যতম সুবিধা বলে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, মোজাম্বিক ও কানাডাসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বছরে ১৫ লাখ টন এলএনজি সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।
বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি আমদানির ফলে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সরবরাহব্যবস্থা ও সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের ঝুঁকি কমবে বলেও দাবি করেছে সামিট।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের অক্টোবরে পেট্রোবাংলা এসএলএনজি-২-এর সঙ্গে করা টার্মিনাল ইউজ এগ্রিমেন্ট (টিইউএ) ও ইমপ্লিমেন্টেশন এগ্রিমেন্ট (আইএ) বাতিল করে।
সামিট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসএলএনজি-২-এর ৪৫ লাখ টন বার্ষিক সক্ষমতার একটি এফএসআরইউ বিওট ভিত্তিতে নির্মাণের কথা ছিল। ২০২৬ সালের মধ্যে এটি নির্মাণ করে ১৫ বছর পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল।
চুক্তি অনুযায়ী, ১ লাখ ৭০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার এফএসআরইউটির দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা থাকার কথা ছিল ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এটি বাংলাদেশে তৃতীয় এফএসআরইউ হিসেবে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল।
সামিটের মালিকানাধীন ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টন বার্ষিক সক্ষমতার এফএসআরইউ—সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি লিমিটেড—মহেশখালী দ্বীপে অবস্থিত। ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল এটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, টার্মিনালটির কার্যক্রম ২০৩৩ সাল পর্যন্ত চলার কথা।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডের মালিকানাধীন আরেকটি এফএসআরইউ বাংলাদেশে চালু রয়েছে। ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় এটির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে এর এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা ছিল বছরে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টন।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সংস্কারকাজের পর এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউটির সক্ষমতা বাড়িয়ে বছরে ৪৫ লাখ টন করা হয়।