প্রকাশিত : ১৭:১২
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:১৩
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পদ থেকে সরিয়ে ডা. শাহরিয়া শায়লা জাহানকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ওএসডি করা হয়েছিল। ওই অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই তাকে এবার রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের উপ-পরিচালক পদে পদায়ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালটির চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এদিকে ডা. শায়লার পদায়ন স্থগিত এবং মিটফোর্ড হাসপাতালের বর্তমান উপ-পরিচালক ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে স্বপদে বহাল করার দাবি জানিয়েছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)। সংগঠনটির সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।
তথ্যমতে, গত ১ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ওএসডি করে তার স্থলে ডা. শাহরিয়া শায়লা জাহানকে মিটফোর্ড হাসপাতালের উপপরিচালক পদে বদলিপূর্বক পদায়ন করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে পদায়ন করা কর্মকর্তাদের গত ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়। এতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম সই করেছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) হিসেবে দায়িত্ব পান ডা. শাহরিয়া শায়লা জাহান। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে গত বছরের ২৬ এপ্রিল এক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে মেডিকেল অফিসার ডা. মাহাবুব রহমানের বাগবিতণ্ডার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের রাউন্ড ও চিকিৎসাসেবা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ফলে সরকারি হাসপাতালে সেবা না পেয়ে অনেক রোগীকে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে যেতে হয়। ওই ঘটনার পর হাসপাতাল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সংবাদকর্মীরা এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে হাসপাতালের সব বিষয়ে সাংবাদিকদের নজর দেওয়ার প্রয়োজন নেই- এমন মন্তব্য করার অভিযোগও ওঠে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে হাসপাতালের প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকার টেন্ডারে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন ও মানববন্ধন করেন। গত বছরের ১৪ অক্টোবর আয়োজিত এক মানববন্ধনে স্থানীয়রা হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়কের অপসারণ দাবি করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, হাসপাতালের প্রবেশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ লেনদেনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়কের নিয়মিত অফিস না করা, রোগীদের প্রতি অনীহা এবং উগ্র আচরণের অভিযোগও তোলা হয়।
এছাড়া পদায়ন করা কর্মস্থলে যোগদান না করা এবং অনুমোদন ছাড়া অনুপস্থিত থাকার মতো অভিযোগেও ডা. শাহরিয়া শায়লাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরে গত বছরের ১৬ নভেম্বর ডা. শাহরিয়া শায়লা জাহানকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। তার স্থলে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল কবিরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর প্রায় ১০ মাস পর তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালের প্রশাসনিক পদে পদায়ন করা হলো।
ডা. শাহরিয়া শায়লার পদায়নের প্রতিবাদ জানিয়েছে এনডিএফ। গত রোববার সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক ডা. একেএম জিয়াউল হক সেই করা বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে মিটফোর্ড হাসপাতালের উপপরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে ওএসডি করা হলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। অথচ তার স্থলাভিষিক্ত ডা. শাহরিয়া শায়লা জাহানের বিরুদ্ধে মেহেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে সাড়ে ছয় কোটি টাকার টেন্ডার দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।
এসব অভিযোগের পর জনআন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর ওএসডি করা হয়েছিল। এসব বিষয়ে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না করেই রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের প্রশাসনিক পদে তাকে পদায়ন করা হয়েছে।
এতে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে কেন ওএসডি করা হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।