প্রকাশিত : ১৭:১৭
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংকটে পড়া ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের শর্তসাপেক্ষে পুনরায় ওই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিধানটি বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে থাকা এই ধারাটি বাতিলের বিষয়ে কমিটি সম্মতি জানিয়েছে।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে বিলটি নিয়ে আলোচনা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার পর সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিলটি পাস করার জন্য জাতীয় সংসদে তোলা হয়। সেটি পরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করে। এর উদ্দেশ্য ছিল সংকটে পড়া ব্যাংক পুনর্গঠন বা একীভূত করার আইনি কাঠামো করা। অধ্যাদেশে ১৮(ক) ধারা ছিল না। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি আইনে রূপ দেওয়ার সময় ধারাটি যোগ করা হয়। এ ধারায় কিছু শর্ত পূরণ করে রেজল্যুশন বা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনরায় নেওয়ার আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছিল।
ধারাটি নিয়ে সংসদে আপত্তি জানিয়েছিল বিরোধী দল। সংসদের বাইরেও এর সমালোচনা হয়। পরে গত ১০ আগস্ট মন্ত্রিসভা ১৮(ক) ধারা বাতিলের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। সেই বিল নিয়েই আজ বৈঠকে বসে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা-১২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি জানান, সংশোধনীর মাধ্যমে ১৮(ক) ধারা বাতিলের বিষয়ে বিরোধী দলের কোনো আপত্তি নেই। কারণ আগে থেকেই ধারাটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা।
তিনি আরও জানান, শুধু ১৮(ক) ধারা বাতিল নয়, পুরো ব্যাংক রেজল্যুশন আইনও আবার পর্যালোচনা করা দরকার। বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাব দিয়েছেন।
সাইফুল আলম বলেন, ‘একীভূত করা পাঁচটি ব্যাংকের সম্পদ ও দায় আগে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন ছিল। আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী এ ধরনের একীভূতকরণের আগে স্বাধীন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিটি ব্যাংকের সম্পদ ও দায় মূল্যায়ন করা উচিত।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের মূল্যায়ন করা হয়নি বলে দাবি করে বিরোধী দলের এই এমপি জানান, সম্পদ ও দায় ঠিকভাবে মূল্যায়ন না করলে কোন ব্যাংকের সঙ্গে কী একীভূত করা হচ্ছে, সেই চিত্র স্পষ্ট থাকে না। এখনও সুযোগ থাকলে ওই মূল্যায়ন করা উচিৎ।
এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
একীভূত হওয়ার আগে এক্সিম ব্যাংকের পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মজুমদারের হাতে। অন্য চার ব্যাংকের পর্ষদে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম ও তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণ ছিল। এ কারণে পুরনো শেয়ারধারীদের ফিরে আসার সুযোগ রাখা ১৮(ক) ধারা নিয়ে বিশেষভাবে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
গত ১৬ আগস্ট পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসক প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক একক ব্যবস্থাপনায় কার্যক্রম শুরু করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মার্চের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল এক লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৮৪.২২ শতাংশ। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ারে রূপান্তরের মাধ্যমে মূলধনে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মঈনুল ইসলাম খান, শাহাদাত হোসেন ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।