প্রকাশিত : ২০:১৩
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংগ্রাম দত্ত: দেশের অন্যতম পর্যটননগরী ও ‘চায়ের স্বর্গরাজ্য’ হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নানা ধর্মীয় ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী। এ উপলক্ষে শহরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ভক্তদের অংশগ্রহণে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা, পূজা-অর্চনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
এ বছর (২০২৬ সালে) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম জন্মাষ্টমী উদযাপিত হচ্ছে।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ রোডে অবস্থিত শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের আখড়া প্রাঙ্গণে সার্বজনীন শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের আখড়া প্রাঙ্গণে ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা, সংকীর্তন ও সম্প্রীতি সমাবেশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি অজয় কুমার দেব, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি ডা. হরিপদ রায়, সাধারণ সম্পাদক সুদীপ দাশ রিংকু, সাধারণ সম্পাদক পরিমল দাশ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ নূরুল আলম সিদ্দিকী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ ইয়াকুব আলী, ডা. প্রদীপ লাল বণিক, সমাজসেবক যোশেফ দাশগুপ্ত যশো, শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুমন রায়, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ দাস চৌধুরী এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি অলক কান্তি পালসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের আখড়া প্রাঙ্গণ থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। এতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও ভক্তরা অংশ নেন। ঢাক-ঢোল, কীর্তন ও ধর্মীয় সংগীতের সুরে শোভাযাত্রাটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছ্বাসে শ্রীমঙ্গল শহরের প্রধান সড়কগুলোও যেন প্রাণ ফিরে পায়।
শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের আখড়া প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
আয়োজকেরা জানান, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে ধর্মীয় আলোচনা, পূজা-অর্চনা, সংকীর্তনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ, মানবতা, ন্যায়, সত্য ও সম্প্রীতির বাণী মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।
জন্মাষ্টমীর এ আয়োজনে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সম্প্রীতির বার্তাও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আয়োজকদের মতে, শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শনের মানবিক ও নৈতিক শিক্ষাকে ধারণ করে সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।