প্রকাশিত :  ০৯:৫৯
২৬ আগষ্ট ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে বসতবাড়ি থেকে বিষধর শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার

শ্রীমঙ্গলে বসতবাড়ি থেকে বিষধর শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার

সংগ্রাম দত্ত: দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী ও চায়ের স্বর্গরাজ্য শ্রীমঙ্গলের পুর্বাসা আবাসিক এলাকার একটি বসতবাড়ি থেকে বিষধর শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে গোপাল ও গৌতম গোস্বামীর বাসা থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা সাপটি দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে নাহিদ নামে এক ব্যক্তি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা সাপটি শনাক্ত করে জানান, এটি শঙ্খিনী—বাংলাদেশের অন্যতম বিষধর সাপ। পরে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। উদ্ধার করা সাপটি পরবর্তী সময়ে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা জানান, শঙ্খিনী অত্যন্ত বিষধর হলেও সাধারণত মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকতে চায়। তাই বসতবাড়িতে এ ধরনের সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে সাপটিকে বিরক্ত না করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল বা বন বিভাগকে খবর দেওয়া উচিত।

তবে শ্রীমঙ্গলে বিষধর সাপের লোকালয়ে চলে আসার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শহর, আশপাশের এলাকা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় প্রতিদিনই অজগরসহ বিভিন্ন বিষধর সাপ উদ্ধারের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ও খাদ্যের সংকট তৈরি হচ্ছে। এ কারণে বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে বিষধর সাপ ও অজগরের মতো সাপগুলো লোকালয়ে চলে আসছে বলে তাঁদের ধারণা।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, ‘ বিষধর শঙ্খিনীসহ অজগর সাপ লোকালয়ে আসছে, নাকি আমরা বনের ভেতরে ঢুকে পড়ছি?'


Leave Your Comments




সারাদেশ এর আরও খবর