প্রকাশিত : ১০:২৫
২৪ আগষ্ট ২০২৬
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রায়ের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান শিশির মনির।
শিশির মনির বলেন, মামলায় কে কাকে কোথায় এবং কীভাবে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে আদালতের রায়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বিষয় উঠে এসেছে। তবে নুসরাতকে কীভাবে তিনতলার ওপর সাইক্লোন শেল্টারের মতো স্থানে আগুন দেওয়া হলো এবং আশপাশের কেউ কোনো শব্দ শুনল না—এ বিষয়ে রহস্য রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, একা একা আগুন লেগে গেল, আশপাশের কেউ জানল না, কেউ শব্দ পেল না—এই অংশের রহস্য থেকেই গেল। ফলে আমরা এর বিরুদ্ধে আপিল করব। আশা করি, আপিল বিভাগে গিয়ে এই রহস্যের উন্মোচন হবে।
আসামিপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, নুসরাত মৃত্যুকালীন জবানবন্দি দিয়েছিলেন এবং সেই জবানবন্দির অডিও ও ভিডিও রয়েছে। হাইকোর্টে ওই অডিও-ভিডিও দেখানোর জন্য আমি আবেদন করেছিলাম।
মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে নুসরাত বোরকা পরা চার নারী বা মেয়ের কথা বলেছিলেন উল্লেখ করে শিশির মনির বলেন, আজকে দেখবেন, সাজা হয়েছে জুবায়ের সাইফুর রহমানের, তিনি পুরুষ। সাজা হয়েছে শাহজাদা হোসেন শামীমের, তিনিও পুরুষ। কিন্তু মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে নুসরাত চারজন মেয়ের কথা বলেছিলেন। চারজনের মধ্যে একজন নারী পপি সাজা পেয়েছেন, বাকি তিনজন পুরুষ হয়ে গেলেন কীভাবে—এই রহস্য আমরা আশা করি আপিল বিভাগে উন্মোচিত হবে।
বোরকা কেনার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসামিপক্ষের এই আইনজীবী। তিনি বলেন, বোরকা কেনার দায়িত্বে থাকার অভিযোগে কামরুন নাহার মনি আসামি ছিলেন। কিন্তু আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন। বোরকা বিক্রেতাদের সাক্ষী করা হলেও তারা কামরুন নাহার মনিকে চিনতেন না বলে আদালতে জানিয়েছেন।
শিশির মনিরের ভাষ্য, যদি কামরুন নাহার মনিকে খালাস দেওয়া হয় এবং বোরকা বিক্রেতারা তাকে না চিনে থাকেন, তাহলে বোরকা এলো কোথা থেকে? কামরুন নাহার মনি ছাড়া আর কেউ বোরকা নিয়ে আসেনি বলে মামলায় বলা হয়েছে। তাহলে সেই বোরকার অস্তিত্ব কীভাবে এলো—এই রহস্যগুলো আমরা আশা করি পরবর্তী আদালতে উন্মোচিত হবে।
কোনো ফৌজদারি মামলায় অতিমাত্রায় মিডিয়া ট্রায়াল হলে অনেক সময় নিম্ন আদালতের বিচারকদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে দাবি করেন এ আইনজীবী। তিনি বলেন, বিচারের আগেই অনেক সময় টেলিভিশনে বিচার হয়ে যায়, বিচারের আগেই পাবলিক ডোমেনে বিচার হয়ে যায়। এগুলো হলে প্রকৃত অর্থে ন্যায়বিচার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শিশির মনির বলেন, নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। কিন্তু হাইকোর্টে এসে ১০ জন খালাস পেয়েছেন এবং বাকি ছয়জনের মধ্যে মাত্র দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এ বিষয়টিও নিম্ন আদালতের রায়ের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
আসামিপক্ষের এ আইনজীবী জানান, তারা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবেন এবং সেখানে মামলার বিভিন্ন অসংগতি ও নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দির বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।