প্রকাশিত :  ০৪:৪৯
২৩ আগষ্ট ২০২৬

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিতর্কিত কর্মকর্তাকে বদলি

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিতর্কিত কর্মকর্তাকে বদলি

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা যুগ্মসচিব ড. মো. মঞ্জুরুল হককে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। গত ৯ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির তথ্য জানানো হয়। 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে বদলি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় ড. মঞ্জুরুল হককে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়। এরপর হজ ব্যবস্থাপনায় তিনি প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। তার বিরুদ্ধে হজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, বিভিন্ন সিদ্ধান্তে একক নিয়ন্ত্রণ এবং হজ এজেন্সিগুলোর সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনাতেও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তার সুপারিশে এক সাবেক কনসালকে হজ প্রশাসনিক দলে যুক্ত করে সৌদি আরবে নেওয়া হয়। তবে হজ চলাকালে ওই কর্মকর্তার কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাকে প্রশাসনিক দলের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ভিসার পরিবর্তে সরকারি হাজি ভিসায় সৌদি আরবে পাঠানো, নির্ধারিত অর্থ গ্রহণ না করা এবং টিএ-ডিএ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

হজ মেডিকেল টিমের সদস্যদের অভিযোগ, যথাযথ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ইনসুলিন ও রেবিস ভ্যাকসিন লাগেজে করে সৌদি আরবে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এতে জেদ্দা বিমানবন্দরে মেডিকেল ও প্রশাসনিক দলের সদস্যদের জটিলতায় পড়তে হয়। পরে ধর্মমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

হজ এজেন্সির ‘ফিটলিস্ট’ এবং হাজি রিপ্লেসমেন্ট নিয়েও ড. মঞ্জুরুল হকের বিরুদ্ধে একক নিয়ন্ত্রণ ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন এজেন্সিকে রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি শেষ মুহূর্তে উচ্চমূল্যে হাজি সংগ্রহ করে রিপ্লেস করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, দীর্ঘদিন একই মন্ত্রণালয়ে থাকায় ড. মঞ্জুরুল হক হজ উইংয়ে অতিরিক্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন। তার বিরুদ্ধে কথা বললে হজের প্রশাসনিক দলে যাওয়ার সুযোগ হারানোর আশঙ্কায় অনেকে এতদিন মুখ খুলতে পারেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে। হজের প্রশাসনিক দলে তার পছন্দের ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একই জায়গায় দায়িত্ব পালন করলে প্রাতিষ্ঠানিক কাজের ওপর ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই নির্দিষ্ট সময় পর বদলি প্রশাসনিক ভারসাম্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বদলির আদেশের পর ড. মঞ্জুরুল হককে ইতোমধ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তার দায়িত্ব পালনকালে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



Leave Your Comments




সারাদেশ এর আরও খবর