প্রকাশিত : ০৬:৫৮
২০ আগষ্ট ২০২৬
উত্তর কেনিয়ার দুর্গম এলাকায় একটি সাফারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে সামবুরু কাউন্টিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হেলিকপ্টারটিতে থাকা ছয় যাত্রী ও পাইলট—কেউই বেঁচে নেই। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক স্প্যানিশ ভাষার টেলিভিশন নেটওয়ার্ক টেলিমুন্ডোর একজন নির্বাহী এবং ইকুয়েডরের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক ছিলেন।
কেনিয়ার সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ) মতে, লয়সাবা কনজারভেন্সি থেকে সামবুরু কাউন্টির ইওয়াসো নাইরো এলাকায় যাওয়ার পথে সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। তারা জানায়, হেলিকপ্টারে ছয়জন যাত্রী এবং পাইলটসহ মোট সাতজন ছিলেন।
বুধবার গভীর রাতে সামবুরুর পুলিশ কমান্ডার ডেভিড এনকোরয় সাংবাদিকদের বলেন, হেলিকপ্টারে থাকা সাতজনই মারা গেছেন।
নিহতদের মধ্যে পাঁচজন মার্কিন নাগরিক ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তারা জানায়, ‘মার্কিন দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছে এবং কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করছে। আমরা তাদের এই ক্ষতিতে পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে ফ্লোরিডার মিয়ামির একটি স্থানীয় টেলিভিশন স্টেশন জানিয়েছে, ফ্লোরিডায় টেলিমুন্ডোর কয়েকটি স্টেশনের প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল ম্যানেজার ৫৫ বছর বয়সী হোসে সুয়ারেজ নিহতদের মধ্যে রয়েছেন।
মিয়ামিতে এনবিসির অ্যাফিলিয়েট স্টেশনটি এনবিসি ইউনিভার্সাল এবং টেলিমুন্ডো নেতৃত্বের এক যৌথ বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলেছে, ‘কেনিয়ায় একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় হোসে নিহত হয়েছেন, এমন মর্মান্তিক খবর পেয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য মাউন্ট ওলোলোকোয়ের পাদদেশে এক দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় কোম্পানি লেডি লরি হেলিকপ্টারস-এর মালিকানাধীন এই হেলিকপ্টারটি ট্র্যাভেল কোম্পানি অ্যান্ডবিয়ন্ড-এর অতিথিদের বহন করছিল। এক বিবৃতিতে লেডি লরি হেলিকপ্টারস জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়ার সময় এয়ারক্রাফটটি চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করছিল।
স্থানীয় সাফারি অপারেটর ট্রপিক এয়ার কেনিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করতে তাদের দুটি হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে।
বুধবার পরে ইকুয়েডর নিশ্চিত করে, দেশটির ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সেন্টারের পরিচালক মিশেল সেনসি-কন্টুগি এই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক বিবৃতিতে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্সি বলেছেন, ‘গভীর শোকের এই মুহূর্তে, সরকার তার পরিবার, প্রিয়জন এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।’
ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী সেনসি-কন্টুগি তার স্ত্রী স্টেফানি হলিহানের সাথে পর্যটক হিসেবে কেনিয়া সফর করছিলেন, যিনিও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইকুয়েডরের নাগরিক ছিলেন।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিম কেনিয়ার এক পাহাড়ি এলাকায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৬ জন নিহত হয়েছিলেন।