প্রকাশিত : ১৯:১৫
১৬ আগষ্ট ২০২৬
চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, জনগণের দুর্ভোগ ও নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে দলের প্রস্তাব তুলে ধরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট পাশ করা হয়েছে। সরকার চাইলে জরুরি খাতে বরাদ্দ করা অর্থ ব্যবহার করে দ্রুত সংকটের সমাধান করতে পারে। সমস্যা সমাধানে ১০ বছরের অজুহাত না দেখিয়ে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সংকট সমাধানে দীর্ঘ সময়ের কথা বলে জনগণকে শান্ত করা যাবে না। যে কোনো সরকার জরুরি ভিত্তিতে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে নানা পদক্ষেপ নিতে পারে। বিদ্যুতের অবৈধ লাইন বন্ধ, ভূতুড়ে বিল বন্ধ এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের নামে অপচয় বন্ধ করতে হবে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, সিন্ডিকেট করে লুটপাটের মার্কেট করে রেখেছে সরকার। এগুলো বন্ধ করে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। কিন্তু সেদিকে সরকারের নজর নেই। তাদের নজর বিরোধী দলের আন্দোলনের দিকে।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের গণরায় কার্যকর না করে উপায় নেই। সেজন্য জনগণের এই দুর্ভোগ ও নিজেদের ব্যর্থতাকে ঢাকতে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বক্তব্যের প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, কেউ সমস্যা সমাধানে ১০ বছর, আবার কেউ দুই বছরের কথা বলছেন। তাদের বক্তব্যের মধ্যেই কোনো মিল নেই।
সাবেক এ এমপি জানান, জামায়াত প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংকট সমাধানে একটি সমন্বিত প্রস্তাব দিয়েছে। সরকারের সক্ষমতা থাকলে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করে জাতির সামনে তা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা এই সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না। কারণ জ্বালানি সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে শুধু সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। যে মা সকালে চুলা জ্বালাতে পারেন না, যে শ্রমিকের কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় কিংবা যে উদ্যোক্তা সময়মতো পণ্য তৈরি ও রপ্তানি করতে পারেন না—সবাই এর ভুক্তভোগী। এর প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতেও।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।