প্রকাশিত : ১১:০৬
১২ আগষ্ট ২০২৬
বিদ্যুৎ, গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি কৌশল নেওয়া হয়েছে, যা মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় সামিটের টার্মিনালে কার্গো খালাস সম্ভব হচ্ছে না। এক্সিলারেট টার্মিনালটি আংশিক সক্ষমতায় চলছে। এটিকে পুরো সক্ষমতায় চালাতে হলে আবার প্রায় ৭২ ঘণ্টার জন্য টার্মিনালটি বন্ধ রাখতে হবে। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে কথা বলছি। আজ দুপুরেও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক আছে। কোন সময়ে টার্মিনালটি বন্ধ রাখলে জনদুর্ভোগ সবচেয়ে কম হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মানুষের ভোগান্তি চরমে, এটি নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। এ কারণে আমরা বারবার জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে কারও কিছু করার থাকে না। আমরা অসহায়, প্রকৃতির কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়। প্রকৃতি স্বাভাবিক হলে গ্যাস খালাস করতে পারব এবং সেই ক্ষেত্রে গ্যাসের সরবরাহও স্বাভাবিক হবে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে মিটিং করেছি, টিমও সেখানে গেছে। তাদের অফার নিয়ে কাজ চলছে। তাদের কাছ থেকে অন্তত এক কার্গো এলএনজি পাব বলে আশা করছি। এটি একটি মধ্যমেয়াদি সমাধান। হাতে যতগুলো বিকল্প আছে, সবগুলো নিয়েই কাজ করছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি কবে ঠিক হবে, সেটি দিনক্ষণ বেঁধে বলা সম্ভব নয়। তবে জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে। এটি জনগণ নিশ্চয়ই বোঝেন। চেষ্টার ন্যূনতম কোনো ত্রুটি নেই। ইউএস বাংলাদেশ চেম্বারের কাছেও এলএনজির ব্যাপারে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারগুলো মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজেনি; বরং তাৎক্ষণিক সমাধানের পথে গেছে। এ কারণে হঠাৎ করে সংকট এসেছে। একটি সময়ে এই পরিস্থিতির মুখে পড়তেই হতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে গ্রীষ্মকালীন সময়ে এ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।