প্রকাশিত : ১৩:৪২
১১ আগষ্ট ২০২৬
বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অকালপ্রয়াণের পর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও এই জনপ্রিয় চিত্রনায়ককে ঘিরে ভক্তদের আগ্রহে এতটুকুও ভাটা পড়েনি।
স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ যে কজন অভিনেত্রীর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন, তাঁদের মধ্যে শাবনূর অন্যতম। বড় পর্দায় এই জুটির রসায়ন দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তাঁদের অভিনীত সিনেমার গান, গল্প ও পর্দার সম্পর্ক আজও দর্শকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
সালমান শাহের ক্যারিয়ার ছিল সময়ের তুলনায় সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তাঁর অভিনয়শৈলী, স্টাইল ও পর্দা উপস্থিতি তাঁকে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় তারকায় পরিণত করেছে। আর শাবনূরের সঙ্গে তাঁর জুটি সেই স্মৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
সালমানের মৃত্যুর পর এমন খবরও ছড়িয়ে পড়ে—এই দুই তারকার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই গুঞ্জন এখনো চলছেই। এবার প্রসঙ্গটি নিয়ে মুখ খুলেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। তার দাবি, শাবনূরের সঙ্গে সালমানের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং শাবনূরকে নিজের ছোট বোনের মতোই দেখতেন তিনি।
সম্প্রতি সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা ডন গ্রেফতার হওয়ার পর বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ছেলে ও শাবনূরের সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন নীলা চৌধুরী। তিনি জানান, শাবনূর সালমানের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন এবং সালমানও তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন। সালমানের কোনো বোন না থাকায় শাবনূরকে তিনি বোনের মতো স্নেহ করতেন।
শাবনূরও বরাবরই দাবি করে এসেছেন, তাদের সম্পর্ক ছিল ভাই–বোনের মতো।
তবে এই অভিনেত্রীকে নিয়ে কিছু অভিযোগও করেছেন প্রয়াত সালমানের মা। তার দাবি, শাবনূর কখনো কখনো সালমানের সঙ্গে তার বিশেষ কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন একটি ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করতেন। পরবর্তী সময়ে তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নানা ধরনের গল্প ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, শাবনূর বরাবরই এসব প্রেমের গুঞ্জন অস্বীকার করে এসেছেন। তার বক্তব্য, সালমানকে তিনি কখনো প্রেমিক হিসেবে দেখেননি, বরং ভাইয়ের মতো সম্মান করতেন। তিনি বলেন, কিছু মানুষ ও গণমাধ্যম তাদের বন্ধুত্বকে ঘিরে মুখরোচক গল্প তৈরি করেছে।
এ প্রসঙ্গে শাবনূর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা একেবারে সত্যি কথা, সালমানকে আমি ভাই ছাড়া আর অন্য কোনো চোখে দেখতাম না। সালমানের মৃত্যুর পর কিছু লোকজন আমাকে জড়িয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছে। কিছু সাংবাদিকও আমাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক গল্প ছেপেছেন। এটা করে কী লাভ হয়েছে, আমি জানি না। আমি আমার ক্যারিয়ারটা অনেক কষ্ট করে তৈরি করেছি। তিল তিল করে গড়ে তুলেছি। কিছুসংখ্যক লোক গুজব ছড়িয়ে আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করেছে।’
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হয় সালমান শাহর। এতে তার নায়িকা ছিলেন মৌসুমী। এরপর ‘তুমি আমার’ সিনেমার মাধ্যমে শাবনূরের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তিনি। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ অভিনীত ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর।
সালমান-শাবনূর জুটির ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বিক্ষোভ’, ‘বিচার হবে’, ‘তোমাকে চাই’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো ব্যবসাসফল সিনেমা আজও দর্শকের মনে জায়গা করে আছে।