প্রকাশিত :  ০৬:০৮
১০ আগষ্ট ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন

শ্রীমঙ্গলে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন

সংগ্রাম দত্ত: আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়াসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। একই সঙ্গে সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন, দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি, পূর্বপুরুষের ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিকার নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি জানানো হয়েছে।

‘আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ রোববার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব দাবি জানানো হয়। বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী সাংস্কৃতিক কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফিতা কেটে র‍্যালির উদ্বোধন করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফিরে আসে। পরে বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী সাংস্কৃতিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনক দেববর্মার সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। ভূমি দখল, উচ্ছেদের চেষ্টা ও হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে।

সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, পূর্বপুরুষের ভূমি, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর আদিবাসীদের অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা চালু, শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। চা-বাগানে বসবাসরত স্বীকৃতির বাইরে থাকা জাতিগোষ্ঠীগুলোর যথাযথ স্বীকৃতি এবং চা-শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও ওঠে।

বক্তারা জাতিসংঘের ২০০৭ সালের আদিবাসীবিষয়ক ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন এবং আইএলও কনভেনশন-১৬৯ অনুসমর্থন ও কনভেনশন-১০৭ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য নেরলা তেনসং, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের সাবেক সভাপতি যুবরাজ দেববর্মা, নিরালা পুঞ্জির মান্ত্রী এলভিস পতাম, লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মান্ত্রী ফিলা পতমী, বাংলাদেশ আদিবাসী লেখক পরিষদের সভাপতি হামোম সনাতন, শ্রী চুক গারো যুব সংগঠনের সভাপতি পার্থ হাজং এবং পাত্রখোলা চা-বাগানের সভাপতি স্বপন কুর্মী প্রমুখ।



Leave Your Comments




জাতীয় এর আরও খবর