প্রকাশিত : ০৬:১৩
০৫ আগষ্ট ২০২৬
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে তিনি জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন। এ সময় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ক্ষমতাচ্যুত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছে। জাদুঘরটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাধ্যমে। পরে আন্দোলন দমনে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের কঠোর অবস্থান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, গুলি, প্রাণহানি, গণহত্যা, গণগ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের অভিযোগের পর তা দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
আন্দোলনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকার ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। বিভিন্ন স্থানে হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ তথা দেশ-বিদেশে গণহত্যার অভিযোগ ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের একপর্যায়ে ব্যাপক সহিংসতা ও বহু হতাহতের ঘটনার মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। একই সঙ্গে প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান হয় এবং ক্ষমতাচ্যুত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। এই গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অসন্তোষ, ভোটাধিকার, সুশাসন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ৫ আগস্ট সারা দেশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার জাতীয়ভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনও পৃথক কর্মসূচি পালন করছে।