প্রকাশিত : ১৬:২৭
০২ আগষ্ট ২০২৬
ইয়েমেনের বাব আল-মানদেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪টি দেশ নিয়ে একটি মেরিটাইম (সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা) জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানও এ জোটে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ অঞ্চলের এই নতুন নিরাপত্তা উদ্যোগে বাংলাদেশ কেন যুক্ত হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
আজ রোববার (২ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওই মেরিটাইম জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য জানতে চেয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এটি রিয়াদের সঙ্গে ‘কৌশলগত’ সম্পর্ক তৈরির অংশ উল্লেখ করে বলেন, ‘হুতিদের ঠেকাতে’ সৌদি আরবের নেতৃত্বে বহুজাতিক এই জোটে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ।বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ৪৩টি দেশের সামরিক প্রতিনিধি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষে ওই জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মূল বিষয় হচ্ছে, সৌদির সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এবং আমরা সৌদির সঙ্গে সম্পর্ককে কেবল হজ-ওমরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখছি না। কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে কৌশলগত এবং এটা খুবই মজবুত সম্পর্ক হবে।’
মক্কা-মদিনার দুটি পবিত্র মসজিদের রক্ষক হওয়ার কারণে সৌদির সঙ্গে বাংলাদেশের ‘বিশেষ সম্পর্ক’ থাকার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘যেকোনো সময় যদি সৌদি আরব নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো সহায়তা চায়, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নৈতিক ও আদর্শিক জায়গা থেকে সবসময়ই সাড়া দেবে এবং সহায়তা করবে। মূলত এটি সেখানে হুতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য। অন্যদিকে, আমরা কিন্তু ইরানের সাথেও কথা বলছি। সুতরাং এমন নয় যে, ইরানকে আক্রমণ করতে হবে।’
জোটে অংশগ্রহণটা কেমন হবে, বাংলাদেশ সৈন্য পাঠাচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এটি হুতিদের কর্মকাণ্ড মোকাবিলার জন্য একটি জোট। তো, হুতিদের মোকাবিলা করতে যে ধরনের সহায়তা লাগবে, বাংলাদেশের যে ‘রিসোর্সেস’ রয়েছে, সে অনুযায়ী আমরা সেটা দেব।