প্রকাশিত :  ১৪:৩০
০১ আগষ্ট ২০২৬

বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য স্থায়ী হলো মার্কিন ভিসা বন্ড

বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য স্থায়ী হলো মার্কিন ভিসা বন্ড

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন এ ব্যবস্থার আওতায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানসহ মোট ৫০টি দেশের নাগরিকরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। তবে বর্তমান তালিকায় ভারতের নাম নেই।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে।

মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বছরব্যাপী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভিসা গ্রহীতারা যেন তাদের অবস্থানের মেয়াদ ও শর্ত মেনে চলেন, তা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচিটি বেশ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। নতুন এই নিয়ম আগামী সোমবার থেকে কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতে আরও একাধিক দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, ফেডারেল রেজিস্টারের এই বিজ্ঞপ্তি বি-১ এবং বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; যা ব্যবসা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে ইস্যু করা হয়ে থাকে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভিসা ইস্যু করার শর্ত হিসেবে কনস্যুলার কর্মকর্তারা উপযুক্ত মনে করলে সংশ্লিষ্ট অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন।

এতে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং ডিপার্টমেন্ট অব দ্য ট্রেজারির জন্য ভিসা বন্ড কর্মসূচি পরিচালনার সম্ভাব্যতা মূল্যায়নের একটি কাঠামো তৈরি করেছিল ২০২৫ সালের ভিসা বন্ড পাইলট প্রকল্প। এই প্রকল্পের প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তে বন্ড নেওয়া ভিসা গ্রহীতাদের ওপর আইনি শর্ত নিশ্চিতে ভিসা বন্ড কর্মসূচিকে অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম হিসেবে পরিষ্কার হওয়া গেছে।

পাইলট কর্মসূচির আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তারা ৫ হাজার ডলার, ১০ হাজার ডলার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ডের দাবি করতে পারতেন। তবে চূড়ান্ত নিয়মে ৫ হাজার ডলারের বিকল্পটি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বন্ডের সর্বোচ্চ পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।

ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর আগামী ৩ আগস্ট থেকে এই নিয়মটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত বর্তমান ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টি দেশই আফ্রিকার।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমাতেই এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে অভিবাসনবিষয়ক অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে বৈধভাবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মানুষকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

তারা বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কঠোর অভিবাসন নীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে; যা একই সঙ্গে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছে এবং বর্ণগত বৈষম্যকে উসকে দিচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাম্প এসব পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে প্রতিরক্ষা করে আসছেন।

ট্রাম্প বলছেন, তিনি অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করতে চান। কিন্তু সমালোচকরা বলেছেন, তার প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু ভিসা আবেদনকারীর জন্য উচ্চ ফি আরোপ এবং দেশে থাকা কিংবা নতুন আবেদনকারী অভিবাসীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করার মাধ্যমে বৈধ অভিবাসনকেও অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।

• যেসব দেশের জন্য স্থায়ী হলো মার্কিন ভিসা বন্ড

• আলজেরিয়া

• অ্যাঙ্গোলা

• অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডা 

• বাংলাদেশ

• বেনিন

• ভুটান

• বতসোয়ানা 

• বুরুন্ডি

• কেপ ভার্দে 

• কম্বোডিয়া

• মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র

• আইভরিকোস্ট

• কিউবা

• জিবুতি

• ডোমিনিকা

• ইথিওপিয়া

• ফিজি 

• গ্যাবন

• গাম্বিয়া

• জর্জিয়া

• গ্রেনাডা

• গিনি

• গিনি-বিসাউ

• কিরগিজ প্রজাতন্ত্র 

• লেসোথো

• মালাবি

• মৌরিতানিয়া

• মরিশাস

• মঙ্গোলিয়া

• মোজাম্বিক

• নামিবিয়া 

• নেপাল

• নিকারাগুয়া

• নাইজেরিয়া 

• পাপুয়া নিউ গিনি 

• সাও টোমে এবং প্রিন্সিপে 

• সেনেগাল

• সিশেলস

• তাজিকিস্তান

• তানজানিয়া

• টোগো

• টোঙ্গা

• তিউনিসিয়া 

• তুর্কমেনিস্তান

• টুভালু 

• উগান্ডা

• ভানুয়াতু 

• ভেনিজুয়েলা 

• জাম্বিয়া 

• জিম্বাবুয়ে

সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স।


Leave Your Comments




জাতীয় এর আরও খবর