প্রকাশিত : ১৮:০৪
৩০ জুলাই ২০২৬
মুদ্রানীতি ঘোষণার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটারি পলিসি কমিটি (এমপিসি) রেপো রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ১০ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে নির্ধারণ করেছে।
একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) রেট ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) রেট আগের মতোই ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মুদ্রানীতি কমিটির মিটিংয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেইন খান।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর যে সংকেত দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, তারই ধারাবাহিকতায় এবার নীতি সুদহার (রেপো রেট) কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন সুদহার আগামী ২ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।বাংলাদেশ সংবাদ পরিবেশন
সম্প্রতি ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমে আসছে এবং সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে স্থিতিশীলতা ফিরছে। সে কারণে আগামী মাসগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে 'সতর্ক শিথিল' (Cautious Easing) নীতির দিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এমপিসির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত সেই নীতিরই বাস্তব প্রতিফলন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এমপিসি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, দেশীয় বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কী বলা হয়েছিল মুদ্রানীতিতে
নতুন মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে গড় মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
এছাড়া বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের তুলনায় বাড়িয়ে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতিতে তারল্য সংকট কাটিয়ে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে আরও বেশি ঋণ বিতরণে উৎসাহ দেওয়ার কথাও মুদ্রানীতিতে উল্লেখ করা হয়।
মুদ্রানীতিতে আরও বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়া এবং মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী হওয়ায় নীতিগত কঠোরতা ধীরে ধীরে শিথিল করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
রেপো রেট কমায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তহবিল সংগ্রহের খরচ কমবে। এর ফলে ধীরে ধীরে ঋণের সুদের হার কমার সুযোগ তৈরি হবে। এতে শিল্প, ব্যবসা ও নতুন বিনিয়োগে অর্থায়ন সহজ হতে পারে এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়তে পারে।বাংলাদেশ সংবাদ পরিবেশন
তবে বিশ্লেষকদের মতে, নীতি সুদহার কমানোর ইতিবাচক প্রভাব পুরোপুরি পেতে হলে ব্যাংকিং খাতের তারল্য পরিস্থিতি, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং আমানত সংগ্রহের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে এসডিএফ রেট অপরিবর্তিত রাখার মাধ্যমে অতিরিক্ত তারল্য ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক অবস্থানও বজায় রেখেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে বার্তা নতুন মুদ্রানীতিতে দেওয়া হয়েছিল, নীতি সুদহার কমানোর এই সিদ্ধান্ত তারই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়ন।