প্রকাশিত :  ১৬:০৯
৩০ জুলাই ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে ৬০০ ঘনফুট বালু জব্দ, অবৈধ উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

শ্রীমঙ্গলে ৬০০ ঘনফুট বালু জব্দ, অবৈধ উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আনুমানিক ৬০০ ঘনফুট উত্তোলিত বালু জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উপজেলার ৫ নম্বর কালাপুর ইউনিয়নের শেভরন গ্যাস কোম্পানি ও গারো লাইনের মধ্যবর্তী এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে বালুগুলো জব্দ করে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় তাদের সরকারি ফেসবুক পেজে অভিযানসংক্রান্ত তথ্য ও ছবি প্রকাশ করেছে।

শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংঘবদ্ধ একটি চক্র ছড়া থেকে বালু তুলে ট্রাকে করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছে। প্রশাসন সময়ে সময়ে অভিযান চালিয়ে বালু জব্দ, জরিমানা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও অবৈধ উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে সম্প্রতি দৈনিক ইনকিলাব-এর শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ আনোয়ার হোসেন জসিম তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, "শ্রীমঙ্গলে যে কর্মকর্তা বালুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, শ্রীমঙ্গলের জনগণ সেই যুদ্ধের দৃশ্যমান প্রতিফলন চায়। আর কত প্রাণ গেলে বালু উত্তোলন বন্ধ হবে?" তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।

অবৈধ বালুবাহী ট্রাকের কারণে অতীতেও একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সময়ে ভূনবীর ইউনিয়নে বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় এক বৃদ্ধা ও এক শিশু কন্যা এবং সিন্দুরখান ইউনিয়নে পৃথক ঘটনায় এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়। এসব ঘটনার পরও বালু উত্তোলন ও পরিবহন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অভিযানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্রমিক, ট্রাকচালক কিংবা তাঁদের সহকারীরা আইনের আওতায় এলেও অবৈধ বালু উত্তোলনের মূল পরিকল্পনাকারী বা অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা খুব কমই দেখা যায়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড়ি ছড়া থেকে অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য গুরুতর হুমকি। একই সঙ্গে ভারী ট্রাকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল স্থানীয় সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় প্রিন্ট, অনলাইন এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পরিবেশ ও জননিরাপত্তার স্বার্থে কেবল বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।



Leave Your Comments




সারাদেশ এর আরও খবর