প্রকাশিত :  ১৯:৪৫
২৯ জুলাই ২০২৬

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে উদ্ধার দুই বিশাল অজগর, বনে ফেরানোর প্রস্তুতি

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে উদ্ধার দুই বিশাল অজগর, বনে ফেরানোর প্রস্তুতি

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে পৃথক ঘটনায় দুটি বড় আকৃতির অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসে শ্রীমঙ্গলের জাগছড়া চা-বাগান থেকে প্রায় ১৬ ফুট দীর্ঘ একটি অজগর উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে কমলগঞ্জের ফুলবাড়ী চা-বাগান থেকেও আরেকটি বড় অজগর উদ্ধার করেছেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা।

বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠনের সদস্যরা জানান, উদ্ধার করা অজগর দুটি নিরাপদে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা শেষে এগুলোকে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জাগছড়া চা-বাগানে ১৬ ফুটের অজগর

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার জাগছড়া চা-বাগানের ১৭ নম্বর সেকশনে কাজ করার সময় চা-শ্রমিকেরা ঝোপের মধ্যে বিশাল আকৃতির একটি অজগর দেখতে পান। প্রায় ১৬ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ কেজি ওজনের সাপটি দেখে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাঁরা নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে বিষয়টি বাগান কর্তৃপক্ষকে জানান।

খবর পেয়ে বাগানের কর্মকর্তা সেলিম মিয়া বন বিভাগ ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে বিষয়টি জানান। পরে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ এবং বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।

সতর্কতার সঙ্গে অজগরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ফুলবাড়ী চা-বাগানেও মিলল বড় অজগর

একই দিন সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী চা-বাগানের ১৭ নম্বর সেকশনে চা-পাতা সংগ্রহের সময় ঝোপঝাড়ের মধ্যে আরেকটি বড় অজগর দেখতে পান শ্রমিকেরা। তাঁরা সাপটিকে আঘাত না করে বিষয়টি বাগান কর্তৃপক্ষকে জানান।

পরে ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের (সিসিএ) সাপ সংরক্ষণকর্মী ও গবেষক চঞ্চল গোয়ালা ঘটনাস্থলে গিয়ে সতর্কতার সঙ্গে অজগরটি উদ্ধার করেন। পরে সেটিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের রেসকিউ সেন্টারে নেওয়া হয়।

লাউয়াছড়া বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক জানান, উদ্ধার করা অজগরটি কিছুটা অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে সেটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর সুস্থ হলে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় বাড়ছে লোকালয়ে আগমন

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের পাহাড়ি বনাঞ্চল, টিলা ও চা-বাগান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। কিন্তু বনভূমি সংকুচিত হওয়া, আবাসস্থল নষ্ট হওয়া এবং প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস কমে যাওয়ার কারণে অনেক বন্যপ্রাণী এখন মানুষের বসতি ও কৃষি এলাকায় চলে আসছে।

তাঁদের মতে, অজগরসহ কোনো বন্যপ্রাণী লোকালয়ে দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে সেটিকে আঘাত না করে দ্রুত বন বিভাগ বা অনুমোদিত উদ্ধারকারী সংগঠনকে খবর দেওয়া উচিত।

ফুলবাড়ী চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান আশিক মিয়া বলেন, শ্রমিকদের সচেতনতার কারণেই অজগরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বন্যপ্রাণী প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাণীটির কোনো ক্ষতি না করে উদ্ধারকারীদের খবর দেওয়া হয়েছে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীদের মতে, দুটি অজগর উদ্ধারের ঘটনা মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থানের একটি ইতিবাচক উদাহরণ। সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী রক্ষার পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব।


Leave Your Comments




সারাদেশ এর আরও খবর