প্রকাশিত :  ০৬:৫৮
২৫ জুলাই ২০২৬

মেসির শরীরে ব্রাজিলের রক্ত, খেলতে পারতেন ব্রাজিলের হয়েও!

মেসির শরীরে ব্রাজিলের রক্ত, খেলতে পারতেন ব্রাজিলের হয়েও!

লিওনেল মেসি ব্রাজিলের জার্সিতেও খেলতে পারতেন—ফুটবল বিশ্বে চমক জাগানো এমনই একটি তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক ঐতিহাসিক গবেষণায়। ইতালীয় ইতিহাসবিদ ফিওরেঞ্জো সান্তিনির গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়কের পারিবারিক শিকড়ের একটি অংশ ব্রাজিলের সঙ্গে যুক্ত। গবেষণা অনুযায়ী, মেসির প্রপিতামহ ব্রাজিলের সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পরিবারের সঙ্গে আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমান।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর বরাত দিয়ে করা ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, উনিশ শতকের শেষের দিকে ও বিশ শতকের শুরুতে দক্ষিণ আমেরিকায় ইতালীয়দের বিশাল অভিবাসন তরঙ্গের অংশ হিসেবে দেশ ছাড়েন মেসির এক পূর্বপুরুষ। তার প্রপিতামহের বাবা (গ্রেট-গ্রেট গ্র্যান্ডফাদার) রানিয়েরো কোচ্চেত্তিনি ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। পরে স্ত্রী রোজা রিচেজ্জাকে নিয়ে ব্রাজিলে পাড়ি জমান তিনি।

পরিবারটি প্রথমে ব্রাজিলের সান্তোস বন্দরে এসে পৌঁছায়। সে সময় অভিবাসন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নামের বানান ভুল বা পরিবর্তন হওয়া ছিল খুব সাধারণ একটি ঘটনা। রানিয়েরো কোচ্চেত্তিনির নামও পরিবর্তিত হয়ে ‘রামিয়েরো কনসেন্টিনি’ হিসেবে নিবন্ধিত হয়। পরে তাদের পারিবারিক পদবির বানানেও বিভিন্ন সময় পরিবর্তন আসে।

ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর পরিবারটি সাও পাওলোর গ্রামাঞ্চলে চলে যায়। সেখানে তারা ওই অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ কফি উৎপাদক মার্তিনহো প্রাদো জুনিয়রের খামারে কৃষিকাজ করতেন। ঠিক সেই সময়েই রিবেইরো প্রেতো এলাকায় তাদের এক সন্তানের জন্ম হয়। নিবন্ধনের সময় তার নাম আবারও বদলে যায়। আর্দেরিগো কোচ্চেত্তিনি হয়ে যান ফেদেরিকো কুচ্চিত্তিনি। এই ফেদেরিকোই হলেন লিওনেল মেসির প্রপিতামহ।

তবে ব্রাজিলে পরিবারটির বসবাস খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ফেদেরিকো কুচ্চিত্তিনির বয়স যখন মাত্র এক বছর, তখন পুরো পরিবার আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে চলে যায়। আর এখান থেকেই শুরু হয় ফুটবলের অন্যতম বিখ্যাত এক পরিবারের ইতিহাস। রোজারিওতে যাওয়ার পর ব্রাজিলের সঙ্গে তাদের সব ধরনের সরাসরি সম্পর্ক কার্যত ছিন্ন হয়ে যায়। আর এর কয়েক দশক পর রোজারিওতেই জন্ম নেন লিওনেল মেসি।

এই গবেষণার পর ফুটবলভক্তদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি মেসির পক্ষে ব্রাজিলের হয়ে খেলা সম্ভব ছিল? ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার পরিবারের একাংশের ব্রাজিলের সঙ্গে সংযোগ থাকলেও, আইনিভাবে তার ব্রাজিলের হয়ে খেলার কোনো সুযোগ ছিল না।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, শুধু দূরবর্তী পূর্বপুরুষদের জন্মস্থানের ওপর ভিত্তি করে কোনো দেশের জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা যায় না। এর জন্য ওই দেশের নাগরিকত্ব ও আইনি সম্পর্ক থাকতে হয়। জন্ম, নাগরিকত্ব ও ফুটবল শিক্ষা—সব দিক থেকেই মেসির ভিত্তি রচিত হয়েছে আর্জেন্টিনায়। যুব পর্যায় থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ জেতা পর্যন্ত তিনি শুধু আকাশী-সাদা জার্সিরই প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

ফিওরেঞ্জো সান্তিনির এই গবেষণা আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী তারকার পারিবারিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। যদিও এই আবিষ্কার আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির অসামান্য অর্জনকে কোনোভাবেই ম্লান করে না, তবে এটি দক্ষিণ আমেরিকায় ইউরোপীয় অভিবাসনের সেই সময়কার প্রবাহকে নতুন করে সামনে এনেছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে ইতালীয় অভিবাসীদের মাধ্যমে ইতালি, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ইতিহাস কীভাবে এক সুতোয় গাঁথা পড়েছিল, সেই চিত্রই উঠে এসেছে এই গবেষণায়। ফুটবল বিশ্বের কাছে লিওনেল মেসিকে আর্জেন্টিনার জার্সি ছাড়া অন্য কোনো রূপে কল্পনা করা প্রায় অসম্ভব হলেও, তার পরিবারের ব্রাজিলে বসবাসের ইতিহাস নতুন এক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।


Leave Your Comments




খেলাধুলা এর আরও খবর