প্রকাশিত : ১৬:৫২
২০ জুলাই ২০২৬
সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, যেভাবেই হোক গ্রামের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে হবে। তাদের জন্য সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা ও পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে।
আজ সোমবার (২০ জুলাই) বিকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এটিই প্রথমবার কোনো প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অডিটোরিয়ামে গিয়ে বৈঠক করলেন।
প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত ও সহজ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালে গিয়ে যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সবাই সহজে চিকিৎসা পান এবং চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও যেতে না হয়। একইসঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের আরও আন্তরিক হতে হবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে আরও কয়েকটি বিষয়ে নির্দেশনা দেন। বৈঠকের শুরুতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসে স্বাস্থ্য খাতের অর্জন সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান।
জবাবে তারা জানান, আগের সরকারগুলো স্বাস্থ্যখাতকে একেবারে খাদের কিনারে নিয়ে গিয়েছিল। এতে প্রান্তিক মানুষের জন্য যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ও আলোচনা হয়। সেখানে বলা হয়, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক থাকলেও রোগীরা সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা পান না এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
কিডনি রোগীদের চিকিৎসার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জেলা পর্যায়ে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের কথা জানান। বর্তমানে যেখানে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে, সেগুলো ৫০ শয্যায় সম্প্রসারণ করা হবে।
পাশাপাশি আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন তিনি।
বৈঠকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা। এ সময় তারা অবকাঠামোর নকশাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালক ও শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।