প্রকাশিত :  ১৪:৫১
১৯ জুলাই ২০২৬

সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। তবে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে মার্কিন সহযোগিতার এই খসড়া চুক্তি এখনো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই) সিএনএন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে আলোচনা শেষ হলেও চুক্তিতে এখনো স্বাক্ষর হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে ট্রাম্প অনুমোদন দিতে দেরি করছেন। এছাড়া মার্কিন কংগ্রেসে বিরোধিতার মুখে চুক্তি আটকে যেতে পারে বলেও প্রশাসনের আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের চুক্তি সৌদি আরবের জন্য ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ উন্মুক্ত করতে পারে। এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তবে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটবে।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি। তারা ২০২৫ সালের অক্টোবরে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের দেওয়া এক বিবৃতির কথা উল্লেখ করেছে। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছি। এর মাধ্যমে সৌদি আরবে মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে দৃঢ় অঙ্গীকার বজায় রাখা হবে।’

একাধিক সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যকে চুক্তির মূল বিষয়গুলো জানিয়েছেন। তখনই জানানো হয়, সৌদি আরবকে সীমিত পরিসরে নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অথবা প্লুটোনিয়াম প্রক্রিয়াকরণের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এমন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যদিও সমৃদ্ধকরণের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শর্ত থাকবে, তবে সেগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রতিটি প্রযুক্তি বা উপকরণ হস্তান্তরের আগে আলাদা অনুমোদন লাগবে।
তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ ও কংগ্রেস সদস্য। তারা বলছেন, এটি ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওই চুক্তিতে আমিরাত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং আইএইএর পূর্ণাঙ্গ অতিরিক্ত নজরদারি মেনে নিয়েছিল। 

Leave Your Comments




জাতীয় এর আরও খবর