প্রকাশিত :  ১০:৩৯
১৫ জুলাই ২০২৬

ইংল্যান্ডকে আটকাতে কুসংস্কারের আশ্রয় নিচ্ছেন আর্জেন্টাইনরা

ইংল্যান্ডকে আটকাতে কুসংস্কারের আশ্রয় নিচ্ছেন আর্জেন্টাইনরা

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে কুসংস্কার ও সৌভাগ্যের নানা আচার-অনুষ্ঠানে ভরসা রাখছেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। কেউ ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের নাম লেখা কাগজ ফ্রিজারে রেখে ‘অশুভ শক্তি’ আটকে রাখার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ বহুদিনের বিশ্বাসে আঁকড়ে ধরে পালন করছেন এমন সব রীতি, যেগুলো তাদের ধারণায় জাতীয় দলের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে।

আর্জেন্টিনায় এসব বিশ্বাস ও আচারকে বলা হয় ‘কাবালা’। সমর্থকদের ধারণা, এসব কুসংস্কার বা নির্দিষ্ট রীতিনীতি দলের ভাগ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। খবর রয়টার্স।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা যখন ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন অনেক সমর্থক অতীতের সাফল্য এনে দেওয়া সেই রীতিনীতিগুলোই আবার অনুসরণ করছেন।

অনেকেই প্রতিপক্ষের নাম উচ্চারণ করতে চান না। কেউ প্রতিটি ম্যাচে একই জার্সি পরেন, যদিও সেটি ধোয়া হয়নি। কেউ একই আসনে বসেন, আবার কেউ একই খাবার খান। তাদের বিশ্বাস, এসবের কোনো পরিবর্তন হলে দলের সৌভাগ্য নষ্ট হতে পারে।

১৩ বছর বয়সী সমর্থক ইনেস মুত্রি বলেন, ‘আমাদের বন্ধুদের একটা নিজস্ব রীতি আছে। আমরা প্রতিপক্ষের সেরা খেলোয়াড় ও গোলরক্ষকের নাম একই কাগজে লিখে ফ্রিজারের ভেতরে রেখে দিই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার আমরা হ্যারি কেইনের নাম ফ্রিজে রাখব, কারণ সে তাদের সর্বোচ্চ গোলদাতা।’

যে দেশে ফুটবল প্রায় ধর্মের মতো আবেগের বিষয়, সেখানে সমর্থকদের মতে, এসব রীতি অন্তত এমন একটি ম্যাচের আগে মানসিক নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি দেয়, যার ফল আসলে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এই ঐতিহ্য অনেক পুরোনো। ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচ কার্লোস বিলার্দো নানা ধরনের কুসংস্কারের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। মাঠে নামার সময় কে কোন ক্রমে মাঠে প্রবেশ করবেন, সেটিও তিনি নির্ধারণ করে দিতেন। তার সময় থেকেই ‘কাবালা’ আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

বর্তমান কোচ লিওনেল স্কালোনিও নিজের একটি ব্যক্তিগত রীতির কথা স্বীকার করেছেন। টুর্নামেন্ট চলাকালে তিনি বলেন, ‘আমি ডান পা দিয়ে মাঠে প্রবেশ করি এবং এরপর ক্রুশচিহ্ন আঁকি।’

সময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু রীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। এবারের বিশ্বকাপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি এমন অনেক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বরফের ব্লকের মধ্যে আটকে থাকতে দেখা যায়। এর প্রতীকী অর্থ হলো, তারা যেন দৌড়াতে, গোল করতে বা গোল বাঁচাতে না পারেন।

এই ধারণা বাস্তব জীবনেও ছড়িয়ে পড়েছে। ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী হুয়ান পাবলো কালভো বলেন, তিনি জুড বেলিংহামের নামও ফ্রিজে রাখবেন, কারণ তার মতে ইংলিশ মিডফিল্ডার ‘অসাধারণ একজন খেলোয়াড়’। তবে এরপরও তিনি আর্জেন্টিনার জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের এই ম্যাচ আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আবারও সামনে নিয়ে আসছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল থেকে শুরু করে দুই দলের একাধিক স্মরণীয় নকআউট লড়াই—সবই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ।

সেমিফাইনাল উপলক্ষে কালভো পরবেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা যে ধরনের জার্সি পরেছিলেন, সেই নকশার একটি জার্সি।

তিনি বলেন, ‘মেসি প্রায় সব শিরোপাই জিতেছে। কিন্তু এই ম্যাচটি বিশেষ, কারণ এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, বিশেষ করে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে, সে আগে কখনও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়নি।’

অনেক সমর্থকের মতে, ‘কাবালা’র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো একই কাজ বারবার করা। আর্জেন্টিনা একটি ম্যাচ জিতলে পরের ম্যাচেও দিনের প্রতিটি বিষয় একইভাবে পুনরাবৃত্তি করতে হবে—একই মানুষ, একই আসন, একই জার্সি, এমনকি সম্ভব হলে একই খাবারও।

ইনেস মুত্রি জানান, তিনি আরও আট বন্ধুর সঙ্গে ম্যাচটি দেখবেন। তারা প্রত্যেক ম্যাচেই একই টুপি পরেন এবং একই জায়গায় বসেন।

তার ভাষায়, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা অন্য সব ম্যাচের মতোই খুব স্নায়ুচাপের হবে বলে মনে হচ্ছে। তবে ম্যাচটা ভালো হবে। দারুণ উপভোগ্য হবে।’



Leave Your Comments




খেলাধুলা এর আরও খবর