প্রকাশিত : ০৯:১৪
১৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৫৮
১৩ জুলাই ২০২৬
ইসরায়েলের অবৈধ বসতি (সেটেলমেন্ট) এলাকায় উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ লক্ষ্যে সোমবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করছেন।
বৈঠকের শুরুতে ইইউ-এর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি আসলেই অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে সদস্যরা সবাই একমত। বর্তমানে সেখানে যা ঘটছে, তা মূলত ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ কার্যকরের সম্ভাবনাকে আরও অসম্ভব করে তুলছে।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোর ওপর ইতোমধ্যে আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্পেনসহ বেশ কয়েকটি দেশ নিজস্ব বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন যাতে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেয়, সে বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলো বর্তমানে চাপ দিচ্ছে। এই চাপের মুখে গত সপ্তাহে ইইউ-এর নির্বাহী বিভাগ অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত বা বন্ধ করার জন্য বেশ কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে।
সোমবার কাজা কালাস জানান, অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করার বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে অনেক দাবি ও অনুরোধ এসেছে। বিকল্প প্রস্তাবের ওপর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে থেকে জোরালো সমর্থন পাওয়া যায় কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়।
কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, সোমবারের বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা কম। তবে এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো, নিষেধাজ্ঞার প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সমর্থন যাচাই করা।
বাণিজ্য সীমিত করতে আগ্রহী দেশগুলো আলোচনার এই ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এমনকি কিছু কূটনীতিক ইউরোপীয় কমিশনের বিরুদ্ধে বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখার বা গড়িমসি করারও অভিযোগ এনেছেন। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো বলেন, যে বিকল্পগুলো সামনে আনা হয়েছে তা কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানের চেয়ে বরং কালক্ষেপণের উপায় বলে মনে হচ্ছে।
এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মতি প্রয়োজন, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটই যথেষ্ট তা নিয়ে ব্রাসেলসে মতভেদ আছে। কূটনীতিকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান দুই দেশ জার্মানি ও ইতালি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বা দ্বিধায় আছে।
ইসরায়েল ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেম বাদে এই অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি ৫ লাখের বেশি ইসরায়েলি অবৈধভাবে বসতি গড়ে বসবাস করছেন।