প্রকাশিত :  ১১:৫৯
১০ জুলাই ২০২৬

পেনাল্টি মিসের জন্য রেফারিকেই দায়ী করলেন এমবাপ্পে

পেনাল্টি মিসের জন্য রেফারিকেই দায়ী করলেন এমবাপ্পে

কিলিয়ান এমবাপ্পে গত রাতে পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারলে চলতি বিশ্বকাপে গোলসংখ্যায় লিওনেল মেসির সমকক্ষ হয়ে যেতেন। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ফ্রান্স অধিনায়ক। মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তার নেওয়া স্পটকিক ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। ম্যাচ শেষে সেই পেনাল্টি মিসের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এমবাপ্পে।

বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ২৮ মিনিটে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। স্পটকিক নিতে এগিয়ে যান এমবাপ্পে, কিন্তু তার শট সরাসরি বুনুর হাতে চলে যায়। অথচ এর আগের ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে পেনাল্টি থেকেই গোল করেছিলেন এই ফরাসি তারকা।

ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে জানান, পেনাল্টি নেওয়ার আগে একাধিকবার সিদ্ধান্ত বদলানো এবং দীর্ঘ ভিএআর প্রক্রিয়ার কারণে তার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে। তিনি বলেন, রেফারি প্রথমে আমাকে জানান যে পেনাল্টি হয়েছে। আমি জানতে চাই, সিদ্ধান্তটি ভিএআরে যাচাই করা হয়েছে কি না। তিনি বলেন, হয়েছে। এরপর থেকেই আমি প্রস্তুতি নিতে শুরু করি এবং উসমান আমাকে বল এনে দেয়।

তবে এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এমবাপ্পে বলেন, আমি যখন পেনাল্টি নেওয়ার জন্য মনোযোগ দিচ্ছিলাম, তখন রেফারি এসে বললেন যে পেনাল্টি হয়নি। আমি বলটি তুলে নিই। পরে তিনি আবার বলেন পেনাল্টি হয়েছে, তাই বলটি আবার স্পটে রাখি। কিন্তু এরপর তিনি জানান, দুই মিনিট আগের একটি ঘটনা আবার পরীক্ষা করতে হবে।   

ঘটনার সূত্রপাত ২৫ মিনিটে। মরক্কোর ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউই বক্সের ভেতরে এমবাপ্পেকে ফেলে দিলে রেফারি সম্ভাব্য পেনাল্টির সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য ভিএআরের সাহায্য নেন। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় তিন মিনিট সময় লাগে।

এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলেন বলে স্বীকার করেন এমবাপ্পে। তিনি বলেন, পেনাল্টি নেওয়ার সময় কীভাবে মনোযোগ ধরে রাখতে হয়, সে বিষয়ে অনেক কিছু ভেবেছি। কিন্তু এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনও হইনি। কিছুটা মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলাম।

চলতি বিশ্বকাপে ভিএআর নিয়ে নানা বিতর্কের মধ্যেই এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলে প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে নিজের মতামতও দিয়েছেন। তার ভাষায়, এটি এমন একটি বিষয়, যা আমাদের মেনে নিতে হবে। ভিএআর এখন ফুটবলের অংশ। প্রযুক্তি আসার পর খেলার ধরন বদলেছে এবং আমাদেরও এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

যদিও পেনাল্টি মিস করেছিলেন, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে নিজের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন এমবাপ্পে। ৬০ মিনিটে নিজেই গোল করেন তিনি। এরপর ৬৬ মিনিটে উসমান দেম্বেলের গোলেও অবদান রাখেন। তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে ফ্রান্স।

ম্যাচ শেষে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম এমবাপ্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আজকের ম্যাচ কঠিন ছিল। আমরা পেনাল্টি মিস করেছি, আরও কিছু সুযোগও নষ্ট করেছি। কিন্তু কিলিয়ান থাকলে দল আত্মবিশ্বাস পায়। সুযোগ নষ্ট করার পরও সে কখনো দ্বিধায় ভোগে না। অনেকে তাকে স্বার্থপর বলে, কিন্তু সে একজন প্রকৃত নেতা এবং দলের জন্য আদর্শ অধিনায়ক।

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন এমবাপ্পে। সমান ৮ গোল রয়েছে লিওনেল মেসিরও। তবে অ্যাসিস্টের হিসেবে এগিয়ে ফরাসি তারকা। মেসির অ্যাসিস্ট সংখ্যা ১, যেখানে এমবাপ্পে করেছেন ৩টি। অন্যদিকে উসমান দেম্বেলে করেছেন ৫ গোল, যার মধ্যে রয়েছে একটি হ্যাটট্রিকও।

ফ্রান্সের ১৬ গোলের মধ্যে ১১টিই এসেছে এমবাপ্পে ও দেম্বেলের কাছ থেকে। ক্লাব ফুটবলের দুর্দান্ত ফর্ম বিশ্বকাপের মঞ্চেও ধরে রেখে দলকে শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন এই দুই তারকা।



Leave Your Comments




খেলাধুলা এর আরও খবর