প্রকাশিত : ১১:৩৯
০৮ জুলাই ২০২৬
উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে বরগুনার তালতলী উপজেলার ফকিরহাট সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ১৮ জন জেলেসহ দুটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্বার করা সম্ভব হলেও এখনও ২ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন- কালাম পাইকার ও শহীদ। তারা দুজনেই তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
উদ্বার হওয়া জেলেরা হলেন- খলিল মাষ্টার, রিদয় জোমাদ্দার, দুলাল, ইমরান, ফারুক, আল-আমিন, মনির, আশরাফুল, জামাল, ইমরান, শামিম, নাসির, সাগর, আছিফ, নাসির, নুরুজ্জামান। তারা সবাই তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
উদ্বারকৃত জেলেরা জানান, মঙ্গলবার সকালে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে দুটি মাছ ধরার ট্রলার কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এর মধ্যে তপন জোমাদ্দারের মালিকানাধীন ট্রলারে ১৩ জন এবং আলমগীর খলিফার মালিকানাধীন ট্রলারে ৫ জন জেলে ছিলেন। রাতে হঠাৎ সাগর উত্তাল হয়ে উঠলে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলার দুটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।
ঢেউয়ের তোড়ে আলমগীর খলিফার মালিকানাধীন ট্রলারটি ডুবে গেলে ওই ট্রলারেরা জেলেরা জীবন বাঁচাতে তপন জোমাদ্দারের ট্রলারে গিয়ে উঠেন। কিন্তু একপর্যায়ে প্রচণ্ড ঢেউয়ে দ্বিতীয় ট্রলারটিও ডুবে গেলে জেলেরা সাগরে ভাসতে থাকেন।
পরে রাত ৩টার দিকে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার ১৬ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেলার মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। তবে বাকি ২ জনের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি।
এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় উপকূলের পরিবারগুলোতে এখন চলছে শোকের মাতম।
ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান ফরাজী বলেন, “গতকাল ১৮ জন জেলেসহ দুটি ট্রলার সাগরে ডুবে যায়। আজ সকালে ১৬ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের পটুয়াখালীর মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে অন্য ২ জন জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের সমিতির পক্ষ থেকেও নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।”