প্রকাশিত : ০৫:৩৩
০৮ জুলাই ২০২৬
আর্জেন্টিনা ও মিশরের লড়াই ছিল বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নাটকীয় ম্যাচগুলোর একটি । দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেফারিং এবং ভিএআরের একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত।
ম্যাচের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মিশর। প্রধান কোচ হোসাম হাসান ও ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো প্রকাশ্যে রেফারিংয়ের সমালোচনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অসংখ্য সমর্থক, সাংবাদিক ও সাবেক ফুটবলার দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত মিশরের বিপক্ষে গেছে। অনেকের মতে, কয়েকটি সিদ্ধান্ত বুঝেশুনেই আর্জেন্টিনার পক্ষে নেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে সমালোচনায় উত্তাল বিশ্ব।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই বিতর্কের সূচনা হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা মিশরের উইঙ্গার এমাম আশুরকে হাত দিয়ে বাধা দেন। তবে ওই ঘটনায় কোনো ফাউল দেননি রেফারি।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও বড় বিতর্ক তৈরি হয়। মিশরের একটি গোল ভিএআরের সহায়তায় বাতিল করা হয়। কিন্তু তাৎক্ষণিক তেমন কোনো কারণ সামনে আনা হয়নি। এরপর আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর চ্যালেঞ্জে পড়ে যান মিশরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। রিপ্লেতে তার পায়ের আঙুলে স্পর্শের ইঙ্গিত মিললেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। ভিএআরও মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
এই দুটি ঘটনাই ম্যাচ শেষে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ৫০-৫০ সিদ্ধান্তগুলো কেন বারবার আর্জেন্টিনার পক্ষেই যাচ্ছে। কেউ কেউ এমনও অভিযোগ করেছেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতি ম্যাচ কর্মকর্তাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
অবশ্য বিতর্কের মাঝেও মাঠে দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তাফা জিকোর গোলে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিশর।
এরপর লিওনেল মেসির নৈপূণ্যে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৭৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো হেডে ব্যবধান কমান। চার মিনিট পর নিজেই দুর্দান্ত ভলিতে সমতা ফেরান মেসি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি রেফারিং নিয়ে বিতর্কই এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। মিশরের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সঠিক সিদ্ধান্ত পেলে ম্যাচের ফল ভিন্নও হতে পারত।