প্রকাশিত : ০৬:২২
০৬ জুলাই ২০২৬
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের আর কোনো শক্তিশালী মিত্র বা রাষ্ট্রীয় সহযোগী নেই—মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের এমন মন্তব্য দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি ইঙ্গিত দেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরায়েলের কৌশলগত সম্পর্ক ও সহযোগিতা এখনও বহাল রয়েছে।
তিনি ভারতকে ইসরায়েলের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রধান সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন যে নয়াদিল্লির কাছ থেকে তেল আবিব সবসময় অসামান্য সহযোগিতা পেয়ে আসছে।
রোববার (৫ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেন যে বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার বাইরেও তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু রয়েছে।
ভারতের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের আরও কিছু বন্ধু আছে, যেমন ভারত নামের একটি ছোট দেশ। সেখানে ১৪০ কোটি মানুষ বসবাস করে এবং আপনারা ধারণাও করতে পারবেন না যে সেখানে আমাদের জন্য কত বিপুল ও চমৎকার সমর্থন রয়েছে।’
গাজা, ইরান এবং লেবাননের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী সামরিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে চরম সমালোচনা ও চাপের মুখে থাকা নেতানিয়াহু এই সাক্ষাৎকারে মার্কিন নেতৃত্বের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিও প্রকাশ করেন।
তিনি জানান যে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে তিনি যথেষ্ট সম্মান করেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হলেন হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে ইসরায়েলের দেখা ‘সবচেয়ে সেরা বন্ধু’। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি ভ্যান্সের সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত হবেন এবং এই কারণেই তিনি ভারতের সমর্থনের বিষয়টি জনসমক্ষে স্পষ্ট করা প্রয়োজন মনে করেছেন।
এর আগে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে একটি কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে ভ্যান্স বলেছিলেন যে ইসরায়েলি প্রশাসনের উচিত হবে না তাদের বিশ্বের বুকে টিকে থাকা ‘একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’ আমেরিকার সঙ্গে কোনো ধরনের দ্বন্দ্বে জড়ানো বা বৈরী আচরণ করা। মূলত মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে আসা এই প্রচ্ছন্ন হুমকির জবাব দিতেই নেতানিয়াহু ভারতের প্রসঙ্গটি সামনে নিয়ে এসেছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি ভারতীয় নাগরিকদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত বিপুল ও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন পেয়ে চলেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে বর্তমানে অনেক দেশের সামাজিক মাধ্যমে ‘ইসরায়েল-বিরোধী এবং ইহুদি-বিরোধী উপাদান’ প্রচার করা এক ধরণের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। তবে বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং পর্দার আড়ালে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা প্রতিনিয়ত তার সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি সই করতে এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর রণকৌশল ও অভিজ্ঞতা শেখার জন্য যোগাযোগ করছেন।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারের কথা থাকলেও তেল আবিব এখনও সেই দাবি মেনে নেয়নি। এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে জানান যে হিজবুল্লাহর হাত থেকে বাঁচতে দক্ষিণ লেবাননের কিছু খ্রিস্টান গ্রাম ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অনুরোধ করেছে।
উগ্রপন্থীদের হাত থেকে খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে রক্ষা করতেই ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে অবস্থান করছে বলে তিনি দাবি করেন, যদিও লেবাননের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই এই দাবিকে সম্পূর্ণ অসত্য বলে নাকচ করে দিয়েছেন।
সূত্র: এনডিটিভি