প্রকাশিত : ০৮:৪১
০৪ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের এনআরজি স্টেডিয়ামে আজ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে কানাডা ও মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মরক্কোর কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার সেই তিক্ত স্মৃতি পেছনে ফেলে, ইতিহাস গড়ার মিশনে মাঠে নামছে কানাডা। অন্যদিকে, দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মরক্কো তাদের ঐতিহাসিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে মরিয়া।
আবার মুহূর্তেই আক্রমণের রূপ বদলে দিতে পারে। একজন মরক্কোর আশরাফ হাকিমি, অন্যজন কানাডার চালিকাশক্তি আলফানসো ডেভিস। শেষ ষোলোতে মরক্কো ও কানাডার লড়াইয়ে এই দুই তারকার দিকেই তাই চোখ থাকবে।
মরক্কোর সবচেয়ে বড় ভরসা হাকিমি।
ডান প্রান্তে তাঁর দৌড়, ওভারল্যাপিং, নিখুঁত ক্রস এবং রক্ষণে সময়মতো ট্যাকল—সব মিলিয়ে তিনি আধুনিক ফুলব্যাকের অন্যতম সেরা উদাহরণ। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বড় মঞ্চে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার মানসিকতা। ২০২২ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে তাঁর ‘প্যানেনকা’ পেনাল্টি আজও মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। কানাডার আশার প্রতীক ডেভিসও কম নন।
চোটের কারণে বিশ্বকাপের শুরুতে তাঁকে পায়নি কানাডা। তবে রাউন্ড অব ৩২-এ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচের চেহারা বদলে দেন। তাঁর উপস্থিতি কানাডার খেলায় অন্য রকম গতি এনে দেয়। শেষ ষোলোর আগে কোচ জেসি মার্শও জানিয়েছেন, ডেভিস শুরু থেকেই খেলতে প্রস্তুত। আশা করা হচ্ছে, দুই তারকার লড়াইটা তাই বেশ উপভোগ্যই হবে।
হাকিমি যখন ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে যাবেন, তখন বাঁ দিক থেকে ডেভিসের কাজটা হবে হাকিমিকে আটকানো। দুজনই গতিশীল, তাই গতি দিয়েই একে অন্যকে পরাস্ত করতে চাইবেন। আশা করা হচ্ছে, দুই তারকার লড়াইটা তাই বেশ উপভোগ্যই হবে। হাকিমি যখন ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে যাবেন, তখন বাঁ দিক থেকে ডেভিসের কাজটা হবে হাকিমিকে আটকানো। দুজনই গতিশীল, তাই গতি দিয়েই একে অন্যকে পরাস্ত করতে চাইবেন।
তবে ম্যাচটি শুধু হাকিমি-ডেভিসের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মরক্কোর শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ স্কোয়াডে আছেন ইয়াসিন বুনু, সুফিয়ান আমরাবাত, ইসমাইল সাইবারির মতো চাপ সামলানোয় দক্ষ ও পরীক্ষিত ফুটবলাররা। অন্যদিকে কানাডা খেলছে ভয়ডরহীন ফুটবল। তাদের তরুণদের আত্মবিশ্বাস, হাই প্রেসিং এবং দলগত শৃঙ্খলা এরই মধ্যে অনেককেই মুগ্ধ করেছে। সেরা আটের টিকিট পাওয়ার এই লড়াইয়ে অভিজ্ঞতার পাল্লা মরক্কোর দিকে কিছুটা ভারী। কিন্তু কানাডাও দেখিয়ে দিয়েছে, তারা ইতিহাস গড়তে এসেছে। আর সেই ইতিহাস লেখার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারেন হাকিমি। মুদ্রার অন্য পিঠে মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গের সবচেয়ে বড় হুমকি হতে পারেন ডেভিস। হিউস্টনে শেষ পর্যন্ত কে ম্যাচ বদলে দিতে পারেন, সেটিই এখন দেখার!